আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আশুলিয়া ব্যুরো: আশুলিয়ায় একটি ভাড়াকৃত কক্ষ হতে স্বামী এবাদুল (২৬) ও তার নব বিবাহিত স্ত্রী রুনা আক্তার (২৪) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশদ্বয়ের ময়না তদন্তের জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছেন। রোববার দুপুর ২টারদিকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার হাসেম কলোনীর মজিবর দেওয়ানের বাড়ির একটি ভাড়াটিয়া কক্ষ থেকে এ লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বামী এবাদুল ফেনী জেলার পরশুরামপুর থানাধীন চারিগ্রাম এলাকার আঃ খালেকের ছেলে। সে আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করতো। নিহত স্ত্রী রুনা আক্তার ফেনী জেলার ফুলগাছি থানাধীন বসন্তপুর এলাকার বদিউজ্জামানের মেয়ে। সে আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করতো। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পারিবারিক সম্মতিতে ১০ লাখ টাকা কাবিনামার মাধ্যমে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্বামী স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছি। স্বামী এবাদুলের লাশটি ঘরের অভ্যন্তরে দরজা বন্ধ অবস্থায় কক্ষের আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্ত্রী রুনা’র মৃতদেহটি ঘরের সামনে বারান্দায় সাথীর (রুয়া) সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে বারান্দার দরজার খোলা ছিল। কি কারণে তাদের আত্মহত্যা সে ব্যাপারে কোন ক্লু এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কোন কারণে হয়তোবা তারা আত্মহত্যা করতে পারে। স্বামীর কক্ষে একটি চিরকুটে লেখা রয়েছে তাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়। তবে প্রতিবেশিরা রহস্যজনক এ মৃত্যুতে হতবাক হয়েছেন।

নিহত রুনার দুলাভাই আরিফ জানান, প্রতিবেশি ভাড়াটে এক নারী টয়লেটে যাওয়ার মূহুর্তে রুনা টয়লেট থেকে বের হন। সে টয়লেটের অভ্যন্তরে ঢুকলেই রুনা টয়লেটের দরজাটি বাহির থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর রুনা তার কক্ষের বারান্দায় গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করে। এ অবস্থায় বদ্ধ টয়লেটের দরজা খোলার জন্য ঐ নারী ডাক চিৎকার করলে প্রতিবেশিরা এসে দরজা খুলে দেয়। তারপর রুনার কক্ষের বারান্দায় গেলে সেখানে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। তখন তাদের ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। সেখানে তার স্বামী এবাদুল গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। তবে কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে তারা কিছুই বলতে পারেননি।