আশুলিয়ায় অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার

আশুলিয়া ব্যুরো: আশুলিয়ায় ভাড়াটিয়া বাড়ির তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে অর্ধগলিত হোসনে আরা (৪০) নামের এক নারী পোশাককর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি ময়না তদন্তের জন্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ইউসুফ পলাতক রয়েছেন। ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৭ টারদিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আলমের বাড়ির ভাড়াটে একটি কক্ষ হতে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে বাড়ির মালিক আলম (৩৯) কে থানায় আটক রাখা হয়েছে।

নিহত পোশাককর্মী হোসনে আরা রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন টিয়ারপাড়া এলাকার মৃত মনিরুজ্জামানের মেয়ে। তিনি আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার অনন্ত পোশাক কারখানার অপারেটর পদে চাকুরি করতেন। সে নিশ্চিন্তপুর আলমের বাড়ির একটি কক্ষে দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

পলাতক ইউসুফ পাবনা জেলা সদরের পশ্চিম চান্দাইল এলাকার বাবুল প্রামাণিকের ছেলে। সেও আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার অনন্ত পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকুরি করতো। একই কারখানায় চাকুরির সুবাধে তাদের পরিচয় হয় এবং তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এ ব্যাপারে পোশাককর্মী স্বপ্না বলেন, তার বড় বোন হোসনে আরা আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করতো। পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে সে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হন। তারা আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে হোসনে আরার স্বামী ইউসুফ কক্ষটি তালাবদ্ধ রেখে চলে যায়। শনিবার বিকেলে ওই কক্ষের পাশর্^বর্তী বাসিন্দারা দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে বাড়ির মালিক আলমের কাছে বিষয়টি জানায়। সে এ ঘটনা শুনে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে থানার উপ-পরিদর্শক সালামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টায় ওই কক্ষের তালা ভেঙ্গে কক্ষের অভ্যন্তরের টয়লেটের কক্ষ হতে লাশটি উদ্ধার করে। এসময় নিহতের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। পরে নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠায়।

জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর ইন্টেলিজেন্স ওবায়দুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে বাড়ির মালিক আলমকে থানায় আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা (নং-২০) হয়েছে।