বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন : রবার্ট মিলার

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান গণগন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রতিক হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের  কারণে আমরা উদ্বিগ্ন। আমাকে সুযোগ দিলে দায়বদ্ধতা বাড়ানো, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ওপর আমি জোর দেবো।

দেশটির সিনেট শুনানিতে গত ২৩ আগস্ট এসব কথা বলেন মিলার। শুনানিতে মিলারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। সিনেট তার মনোনয়ন নিশ্চিত করে। এই নিশ্চিতের জন্য শুনানির মুখোমুখি হতে হয় রাষ্ট্রদূতকে। যদিও এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পলন করছেন মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসেই দায়িত্ব পালনে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যোগ দিবেন তিনি।

শুনানিতে মিলার বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ।কারণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি আবারও পুনর্ব্যক্ত করতে পারবে। এ জন্য সব দলকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। বাংলাদেশ শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের একটি দেশ হবে। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগসূত্র। বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা বিষয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমার মিলিটারি ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তাদের এর দায়িত্ব নিতে হবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা মিশনের কাছে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার পাবে। আমরা জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে কাজ করবো। মিয়ানমার চাপ দেবো, যেন রোহিঙ্গারা সম্মানজনকভাবে ফিরতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (১৭ জুলাই) এই কূটনীতিকের নাম ঘোষণা করেন। বতসোয়ানায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মিলার ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কনস্যুল জেনারেল ছিলেন। তিনি নয়াদিল্লি, বাগদাদ ও জাকার্তায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।