তিতাসের সিবিএ সভাপতিসহ ৬ জন দুদকের মুখোমুখি

তিতাস গ‌্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সিবিএ সভাপতি ও দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হাজী কাজীম উদ্দিন, অন‌্যান‌্য নেতা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ‌গ‌্যাস সংযোগ ও মিটার টেম্পারিংসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ‌্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান এরই মধ‌্যে সভাপতিসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন‌্য তলব করেছে।

দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র  এসব তথ‌্য নিশ্চিত করেছে। তিতাসের এমডি বরাবর পাঠানো তলবি নোটিশে তাদেরকে আগামি ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব‌্য প্রদানের জন‌্য বলা হয়েছে।

তলবকৃতদের মধ‌্যে সিবিএ সভাপতি হাজী কাজীম উদ্দিনকে ১১ সেপ্টেম্বর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আয়াজ উদ্দিন, সহকারী ব‌্যবস্থাপক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ নাসীর উদ্দিনকে ১২ সেপ্টেম্বর এবং সিবিএ নেতা হিসাব রক্ষক আসাফুদ্দৌল্লাহ টুটুল ও সাভার মিটারিং এন্ড ভিজিলেন্স শাখার ডেপুটি ম‌্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলামকে ১৩ সেপ্টেম্বর হাজির হতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তিতাস গ‌্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সিবিএ সভাপতি হাজী কাজীম উদ্দিন, অন‌্যান‌্য নেতা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে অবৈধ গ‌্যাস সংযোগ দেওয়া, বাইপাস লাইন দেওয়া ও মিটার টেম্পারিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ‌্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি কোম্পানি সিবিএ’র কতিপয় নেতার সহযোগিতায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ, মিটার টেম্পারিং, বাইপাস লাইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এতে করে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। তিতাস গ্যাস এর সিবিএ’র সভাপতি হাজী কাজীম উদ্দিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্নীতিবাজদের সহযোগিতা করে আসছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ এলাকার সহকারী কর্মকর্তা হোসেন গংদের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, বাইপাস লাইন, মিটার টেম্পারিংসহ নানা প্রকার অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কাজীম উদ্দিন চলমান সিন্ডিকেটের অবৈধ আয়ের সিংহভাগই ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা হয়েও সিবিএ সভাপতির পদ আকড়ে রেখেছেন। তিতাস গ্যাসের অন‌্য নেতা সিবিএ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আয়াজ উদ্দিনও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন। তিতাসের বিভিন্ন অঞ্চলের অবৈধ গ্যাস সংযোগ, লোড বৃদ্ধি, মিটার টেম্পারিং, বাইপাস লাইন নির্মাণ এর মাধ্যমে অবৈধ অর্থের ভাগ আদায় করছেন।

অবৈধ আয়ের টাকায় তিনি একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। আয়াজ উদ্দীনের আপন ভাই তিতাসে সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ নাসীর উদ্দিনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে নিয়মিত অফিস না করে তিনি ২ থেকে ৩ দিন এসে পুরো মাসের স্বাক্ষর করেন।

অন‌্যদিকে সিবিএ নেতা তিতাসের হিসাব রক্ষক আসাফুদ্দৌলা ওরফে টুটুল। তিনি ডিসকানেকশন টিমের সদস্য হলেও কখনই তিনি তার নির্ধারিত কাজে টিমে থাকেন না। নেতা হিসেবে তাকে প্রতিদিনই টিম থেকে অবৈধ আয়ের মোটা অংকের ভাগ দিতে হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পশ্চিম ধানমন্ডির সকল অবৈধ সংযোগের সঙ্গে তিনি জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি রাজধানীতে কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর তিতাসের সাভারের মিটারিং এন্ড ভিজিলেন্স, ডেপুটি ম্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাভারের একই স্টেশনে প্রায় ১২ বছর থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে।