আবারও কোচ হলেন ম্যারাডোনা

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। খেলোয়াড় জীবনটা সাফল্যময় ভরা হলেও। কোচিং ক্যারিয়ারে তেমন সাফল্য নেই বললেই চলে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে দুই বছর কোচিং করিয়েছেন। ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় লাতিন পরাশক্তিরা।

২০১১ সালের মে মাসে, তিনি দুবাইয়ের ক্লাব আল ওয়াসলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। সফলতা না পাওয়ায় ২০১২ সালের ১০ জুলাই তাকে বরখাস্ত করা হয়।

ম্যারাডোনার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু আগেই বিদায়ের ঘণ্টা বাজে। হুট করেই শোনা যায়, অমুক ক্লাবের কোচ হয়েছেন ম্যারাডোনা। কয়দিন পরই আবার শোনা যায়, ম্যারাডোনা কোচের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন। বা ক্লাব তাকে বিনয়ের সঙ্গে সরে যেতে বলেছে।

তবে বিদায় ঘণ্টা বাজলেই কি আর না বাজলেই কি এতে তার কিছু যায় আসেনা। তাই তো নতুন করে কোচিংয়ের দায়িত্ব নিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। মেক্সিকোর দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব দোরাদোস দে সিনালোয়ার কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা।

খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার জন্যই কিংবদন্তি ম্যারাডোনার স্মরণাপন্ন হয়েছে দোরাদোস। কেননা দ্বিতীয় বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে থাকলেও কথা ছিল। ১৫ দলের লিগে এই মুহূর্তে দোরাদোসের অবস্থান ১৩ নম্বরে! মানে ঘাড়ের উপর অবনমন খড়্গ। চুক্তিটা এরই মধ্যে হয়ে গেছে।

দোরাদোসই গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ক্লাবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে ম্যারাডোনাকে কোচ করার বিষয়টি। চুক্তিটা হয়েছে দেড় মৌসুমের জন্য। মানে এই মৌসুমের বাকি সময় এবং আগামী মৌসুমের পুরোটা সময়ের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন ম্যারাডোনা।

দোরাদোস ক্লাবটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে খেলোয়াড় হিসেবে সেখানে ছয় মাস কাটান ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান কোচ পেপ গুয়ার্ডিওলা।

এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন তো ম্যারাডোনা? কেননা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচিংয়ে আগে ৪টি ক্লাবের কোচ হয়েছেন। কোনো ক্লাবেই চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। কখনো ক্লাবই তাকে অতি বিনয়ের সঙ্গে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। কখনো নিজে ছেড়েছেন। তাই অতীতের রেকর্ড ভেঙে আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।

তবে আশা প্রকাশ করে দোরাদোস বলছে, ম্যারাডোনার মতো ফুটবলের এক মহীরুহকে কোচ হিসেবে পেয়ে তারা খুব খুশি। খুশি ম্যারাডোনাও। দোরাদোস ও ৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনার ‘খুশির সংসার’ কতদিন স্থায়ী হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।