প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার শাস্তি কার্যকর হলে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে: মাহাথির

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ দেশটিতে দুই মুসলিম নারীকে সমকামিতার অভিযোগে বেত্রাঘাত করার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন। এটি ছিল তার মন্ত্রীসভার দায়িত্ব নেয়ার পর বিতর্কিত বিষয়ে দেয়া প্রথম কোনো বিবৃতি।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়াতে সমকামিতার অভিযোগে জনসম্মুখে বেত্রাঘাত করার যে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে তাতে ইসলাম সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ইসলাম ধর্ম নির্মম এবং জনসাধারণের প্রতি অপমানকর হিসেবে চিত্রায়িত হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার দেশটির কিছু নাগরিক দুইজন মুসলিম নারীকে সমকামিতার অভিযোগে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার পরে ড. মাহাথির মোহাম্মদ এই বিবৃতিটি দেন। মালয়েশিয়ার অনেক এনজিও এই কাজকে মানবাধিকার পরিপন্থী কাজ বলে বর্ণনা করেছেন।

ড. মাহাথির মোহাম্মদ তার ফেইসবুক একাউন্টে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, তেরেনগানু শরিয়া আদালত কর্তৃক এ ধরনের শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে ইসলামের সত্যিকারের সৌন্দর্য ক্ষু্ণ্ন হয়।

তিনি এ ধরনের অপরাধের জন্য ভবিষ্যতে আরো হালকা শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানান।

‘এটি ছিল অভিযুক্তদের জন্য প্রথম কোনো অপরাধ। যখন এধরনের অপরাধ প্রথম করা হয় তখন অভিযুক্তদের উত্তম উপদেশ দেয়া উচিত। প্রথমেই অভিযুক্তদের বেত্রাঘাত করার মত শাস্তি দেয়া হলে এগুলো বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক ভাবে প্রচার পেয়ে যায়।’

‘এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনে ইসলাম ধর্মের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরী হয়।’-ড. মাহাথির এমনটি বলেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশটির দুইজন মুসলিম নারী তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে সমকামিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং তেরেনগানু শরিয়া আদালত সোমবার অভিযুক্তদের প্রত্যেককে প্রকাশ্যে ছয় বার করে বেত্রাঘাত করার দন্ড দেন। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে এই দন্ড কার্যকর করা হয়।

মালয়েশিয়াতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে এই প্রথম শাস্তি ঘোষাণা করে দেশটির কোনো আদালত। প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার আদালতের দেয়া দন্ড অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য, তাদের নিযুক্ত কার আইনজীবীগণ এবং গণমাধ্যম সহ অন্তত ১০০ জন মানুষের সম্মুখে কার্যকর করা হয়।

তেরেনগানু রাজ্যের স্থানীয় সরকার আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয় এবং নিযুক্ত করা আইনজীবীরা প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার বিরুদ্ধে আদালতে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বলেন, প্রকাশ্যে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর করা হলে তা অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে পারে।

দেশটির শরিয়া বাস্তবায়ন কাউন্সিল এবং উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা সাতিফুল বাহারি মামাত বলেন, শরিয়া আদালত কর্তৃক ঘোষিত শাস্তি মালয়েশিয়ার দেওয়ানী আদালতের দেয়া শাস্তির চাইত অনেক বেশী নমনীয় এবং ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

সূত্রঃ ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।