সড়ক দুর্ঘটনার ৫২ ভাগই পথচারী সম্পর্কিত, নিয়ম মানছে না

: সড়ক ব্যবহারের সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পথচারীদের জরিমানা করছে বিআরটিএ। সেই সঙ্গে পথচারী পারাপারে ট্রাফিক পুলিশ নিয়েছে নানা উদ্যোগ। আছে আন্ডার পাস কিংবা জেব্রা ক্রসিং। যেগুলোর নেই তেমন ব্যবহার। নিজেদের খেয়ালখুশি মতো ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। তথ্য অনুযায়ী, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৫২ ভাগই পথচারী সম্পর্কিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পথচারী পারাপারে সড়কে নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

সড়ক পারাপার হতে প্রতিমুহুর্তই জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন পথচারীরা। ঘটছে দুর্ঘটনা। তারপরও রাজধানী ঢাকায় সড়ক ব্যবহারে যাত্রী ও পথচারীদের উদাসীনতা কিংবা স্বেচ্ছাচারিতা চলছেই।

পথচারী পারাপারের জন্য আছে ওভারব্রিজ, আন্ডার পাস কিংবা জেব্রা ক্রসিং। কিন্তু রাস্তা পার হবার সময় চলন্ত গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হন অনেক পথচারী। জনসচেতনতা বাড়াতে পারাপারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। তবে, এটা তো নির্ধারিত কয়েকটা দিনের জন্য। বছরের বাকিটা সময় সড়ক দুর্ঘটনা থেকে প্রাণ বাঁচাতে সতর্ক থাকতে হবে পথচারী নিজেদেরকেই।

এদিকে, নিয়ম না মেনে পথচারীদের সড়ক ব্যবহারে এমন অসতর্কতায় বেশিরভাগ সময়ই মানসিক চাপে থাকতে হয় চালকদের।

পথচারীদের সড়ক ব্যবহারে চালকরা বলছেন, কোনোভাবে একটা দুর্ঘটনা ঘটুক সেটা আমরা কোনোভাবেই চাই না। তবে, পথচারীরা সড়কের যে কোনো জায়গা দিয়ে তাদের ইচ্ছামতো যাতায়াত করবেন তা কোনোভাবেই ঠিক না। পথচারীরা তাদের খেয়াল-খুশিমতো রাস্তা পারাপারের ফলে কখনও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার এসে পড়ে চালকদের ওপর। এসব রোধে নির্দিষ্ট আইন চান গাড়ি চালকরাও।

তবে পথচারীরা বলছেন, পারাপারে সড়কে নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। পথচারীরা জানান, ট্রাফিক সিগন্যাল দেয়ার পরও জেব্রা ক্রোসিং ফাঁকা থাকে না, ফলে যাত্রীরা ইচ্ছা অনুযায়ী রাস্তা পার হয়। আবার ফুটওভার ব্রীজ ও আন্ডারপাস কাছাকাছি না থাকার কারণে পারাপারে সমস্যা তৈরি হয়। আবার এক পথচারী জানান, আমরা সচেতন হলেও যারা সবসময় সড়কে থাকে তারা কিন্তু সচেতন হচ্ছে না।

আর ফুটওভার ব্রীজের যে সিড়িগুলো রয়েছে সেগুলো খাড়া হওয়ার কারণে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের জন্য পারাপারে সমস্যা হয়। ফলে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

আবার অনেক পথচারী জানান, পাঠ্যপুস্তকে রাস্তা পারাপার বা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সুপষ্ট ধারণা দেয়া থাকতো তাহলে শিশুরা ছোট থেকেই সব নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠে ত পারতো।

পথচারীদের সঙ্গে একমত বিশেষজ্ঞরাও। বলছেন, সড়ক পারাপরে নেই কোনো নির্দেশনা। আবার যা আছে তাও মানছেনা সড়ক ব্যবহারকারীরা।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ফুটওভার ব্রীজগুলো অনেক ওপরে হওয়ার কারণে কেউ উঠতে চায়না, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ওঠার কষ্টের কারণেই পথচারীরা ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করতে চায় না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক শাহনেওয়াজ রাব্বী বলেছেন, রাস্তার যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে বাসে ওঠার জন্য বাস দাঁড় করানো যেমন বন্ধ করতে হবে। তেমনি যেখানে সেখানে চালকদের বাস দাঁড় করানোটাও বন্ধ করতে হবে।

সড়কে প্রাণহানি ঠেকাতে পথচারী পারাপারে এখনই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : ডিবিসি নিউজ