জাবালে নূরের মালিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের মামলায় ছয় জনের বিরুদ্ধে  চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহামগর হাকিম আদালতের জিআর শাখায় চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (পরিদর্শক) শরিফুল ইসলাম।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- জাবালে নূরের ওই ঘাতক বাসের মালিক মো. শাহাদত হোসেন, বাসচালক মাসুম বিল্লাহ, জোবায়ের,  এনায়েত, আসাদ গাজী ও জাহাঙ্গীর। একইসঙ্গে চার্জশিটে দুই জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তারা হলেন- সোহাগ আলী ও রিপন হোসেন।

গত ২৯ জুলাই জাবালের নুরের একাধিক বাস যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। প্রতিযোগিতায় লিপ্ত একটি বাসের চাপায় বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ১০ থেকে ১২ শিক্ষার্থী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিনই রাস্তায় নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচারসহ নিরাপদ সড়কের জন্য ৯ দফা দাবিতে চলে টানা আন্দোলন। এসময় শিক্ষার্থীদের হত্যার জন্য দায়ী জাবালে নূর পরিবহন রিমিটেডের রুট পারমিট বাতিলেরও দাবি তোলে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ১ আগস্ট জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ বাতিল করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এদিকে,  দুর্ঘটনার জন্য দায়ী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ, যুবায়ের ও সোহাগকে  এবং  দুজন হেলপার রিপন ও এনায়েতকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতার হন বাসটির মালিক শাহাদাত হোসেনও। এরপর র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিতে বাসচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, তার বড় গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল না। হালকা যান প্রাইভেটকার ও ছোট মাইক্রোবাস চালনার জন্য লাইসেন্স নিয়ে তিনি বাস চালিয়ে আসছিলেন।