এবার পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই দলই ফুটবল থেকে নির্বাসনে ছিল। বাংলাদেশ এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাইপর্বে ভুটানের কাছে হেরে ১৭ মাসের নির্বাসনে যায়।

পাকিস্তান বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেই পাকিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বাদশ আসরে নেপালকে হারিয়েছে ২-১ গোলে।

অন্যদিকে যে ভুটানের কাছে হেরে বাংলাদেশের ফুটবল নির্বাসনে গিয়েছিল তাদের ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিকরা। এবার মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন ও বিটিভি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৬ বার। পাকিস্তানেরও জয় ৬টি। ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অন্যদিকে ১২ বার প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। তার মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ৬টিতে। আর বাংলাদেশ জিতেছে ৪টিতে। ২টি ম্যাচে কেউ জেতেনি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ৫ বছর আগে। ২০১৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ওই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে কাঠমুন্ডুতে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার কী তার প্রতিশোধ নিতে পারবেন মাহবুবুর রহমান সুফিল ও তপু বর্মনরা। যেমনটা নিয়েছে ভুটানের বিপক্ষে। অবশ্য ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেবারিট বাংলাদেশ। ফেবারিট র‌্যাঙ্কিংয়েও। র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১৯৪তম স্থানে। আর পাকিস্তান রয়েছে ২০১তম স্থানে।

বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ জিমি ডে অবশ্য নিজেদের ফেবারিট মানতে রাজি নন। এই ম্যাচে ফেবারিট কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান। তাদের পাঁচজন খেলোয়াড় ইউরোপে খেলে। তাদের খেলোয়াড়দের উচ্চতাও বেশ। তাছাড়া ফিটনেসের দিক দিয়ে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে ফিট মনে হয়েছে আমার। তারা পাল্ট আক্রমণে বেশ ভালো খেলছে। এই টুর্নামেন্ট জেতার মতো দল তারা। তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। প্রথম ম্যাচে ছেলেরা অনেক পরিশ্রম করেছে। ভালো খেলেছে। এই ম্যাচকে সামনে রেখে তারা বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তপু বর্মনের কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাসের সুর, ‘এই ম্যাচকে সামনে রেখে আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী। ভুটানের বিপক্ষের ম্যাচটি ভালোভাবেই জিতেছি। সবাই খুব ভালো খেলছে। পাকিস্তানের বিপক্ষেও সবাই একসঙ্গে ভালোভাবে খেলব। দলগতভাবে খেলব। যেভাবেই হোক কালকের ম্যাচটি জিততে চাই। তিন পয়েন্ট নিতে চাই। আমরা সবাই জানি পাকিস্তান দল নেপালের বিপক্ষে কেমন খেলেছে। আমাদেরকে আসলে ওই লেভেলেই ফুটবল খেলতে হবে। আমরা সবাই আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব। ভুটানের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি তার চেয়েও ভালো ম্যাচ খেলার চেষ্টা করব।’

পাকিস্তানের কোচ হোসেন অ্যান্তোনিও নোগুইরা অবশ্য বাংলাদেশ দলকে ফেবারিট মানছেন, ‘পাকিস্তান লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেনি। প্রায় চার বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি। নেপালের বিপক্ষে জয় পেয়েছি। বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দল। তাদের বিপক্ষে ছেলেরা ভালো খেলার চেষ্টা করবে।’