সাফ ফুটবল দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু আজ

: বাংলাদেশের প্রথম মহাকাশ যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) মঙ্গলবার দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) চ্যাম্পিয়নশীপ সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানায়, এ উপলক্ষে বিএস-১-এর তদারকী সংস্থা বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বিসিএসসিএল’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বাসস’কে বলেন, তারা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ খেলা সম্প্রচারের জন্য প্রস্তুত।

এই সম্প্রচারকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ‘প্রাক-পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট স্টেশনে সম্প্রচারের পর আমরা তা বিটিভিতে প্রচার করব।’

স্যাটেলাইটটি মহাকাশে স্থান করে নেয়ার পর থেকে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ড. মাহমুদ বলেন, ‘এখন আমাদের সামনে চলার সময় এসেছে। আমরা আগামী দুই সপ্তাহ পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের মাধ্যমে বিএস-১-এর কার্যক্রম অবলোকন করব।’

স্থানীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সমূহের প্রস্তুতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিসিএসসিএল’র প্রকৌশলীগণ তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের ব্যাপারে কাজ করছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সংযোগের জন্য তাতে অন্যান্য স্যাটেলাইট থেকে কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, এই স্যাটেলাইটের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থমাস অ্যালিনিয়া স্পেস এখনো বিসিএসসিএল-এর কাছে দ’ুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেনি। এই দুই গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রাথমিকটি গাজীপুরে এবং মাধ্যমিকটি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত।
আগামীকাল ৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ১২তম সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

আজ শুরু হচ্ছে সাফ ফুটবল
আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। মূলত এশিয়ার বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত এ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। স্পন্সরশিপের কারণে ২০১৫ সাল থেকে টুর্নামেন্টটি ‘সাফ সুজুকি কাপ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে অংশ অংশ নিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।

শ্রীলংকা ও স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, সাফ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে গতকাল উন্মোচিত হয়েছে টুর্নামেন্টের ট্রফি।

সাত দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান, নেপাল ও পাকিস্থান। ‘বি’ গ্রুপে লড়বে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। কাল মঙ্গলবার উদ্বোধনী ম্যাচে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে নেপাল ও পাকিস্তান। সন্ধ্যা ৭টায় দিনে দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সাতবার শিরোপা জিতেছে ভারত। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা।

২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এ পর্যন্ত একবারই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক, কখনো আর ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি লাল-সবুজের জার্সিধারীদের। শুধু দেড় দশকের ট্রফি শূন্যতাই নয়, সাফে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থাও খুব বেশি ভাল নয়। সর্বশেষ তিন আসরের কোনোবারই গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন আসরে মোট ৯ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র একটিতে, ড্র দুটি, বাকি ছয়টিই হার।

অথৈ সাগরে তলিয়ে যেতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলে অবশ্য হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে এসেছে এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স। যেখানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রায় একশ ধাপ এগিয়ে থাকা কাতারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো খেলেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেই সাফল্য সাফে বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে। আশা ২০০৩ আসরের পুনরাবৃত্তি।