মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকড় আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

ফুলকি ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর থেকে চলমান মেগা-থ্রি অভিযান আরো জোরদার করেছে দেশটির সরকার। ৩১ আগস্ট সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগেই এ অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ। প্রতিদিনই সে দেশে অবৈধভাবে থাকা শত শত কর্মীকে আটক করছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের নাগরিকরাও আছেন। অভিযানে এ পর্যন্ত আটক হয়েছে তিন হাজারের বেশি বিদেশি কর্মী। এদের অর্ধেকই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানায়, অভিযানের আগে অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণ হতে একাধিকবার সুযোগ দিয়েছে দেশটি। আমরাও আমাদের কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য নানাভাবে প্রচারণা ও সহযোগিতা করেছি। সতর্কবার্তাও দেয়া হয়েছে কিন্তু এর পরও অনেকে হাইকমিশনের নির্দেশকে উপেক্ষা করেছে বা গুরুত্ব দেয়নি। এখন সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষে দেশটি অভিযানে নেমেছে। এখানে আমাদের আর কিছুই করার নেই। দেশটি আইন অনুযায়ীই ধরপাকড় বা বহিষ্কার করতে পারে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা জানান, বহুদিন মালয়েশিয়াতে থাকার পরও যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, এই ধরপাকড় অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মালয়েশিয়ার পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে। যেখানেই তারা হানা দিচ্ছে, এ খবর পাওয়া মাত্রই কমিউনিটির লোকজন ফেসবুক বা হোয়াটস-অ্যাপে সবাইকে সতর্ক করে মুহূর্তেই বার্তা পাঠাচ্ছেন কিন্তু তাতেও ধরপাকড় এড়ানো যাচ্ছে না। রাজধানী কুয়ালালামপুরে শপিংমল ও তার আশপাশের এলাকায় যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবস্থায় কাজ করছিলেন, তাদের অনেকেই এখন কর্মক্ষেত্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। ভয়ে পালিয়ে থাকা এসব অবৈধ বাংলাদেশিরা অনেকেই অভিযোগ করছেন কথিত এজেন্টদের হাতে তারা প্রতারিত হয়েছেন। বৈধকরণের সুযোগ নিতে তারা এজেন্টদের কাছে টাকা দিয়েছেন কিন্তু এজেন্টরা টাকা নিলেও কোনো কাজ করেনি। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক শ্রী মোস্তাফার আলি এই অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, ৩১ আগস্টের মধ্যে এখান থেকে সব অবৈধ শ্রমিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত যেতে সময় দেয়া হয়েছিল কিন্তু যারা ওই তারিখের মধ্যে দেশে ফেরেননি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের মধ্যে ২০১৬ সালের পর রি-হায়ারিং সুযোগ নিয়ে নিবন্ধন করেছে ৪ লাখের বেশি শ্রমিক। এ প্রকল্পের সুযোগ নেয়নি দেড় লাখের বেশি শ্রমিক। তারা এখন গ্রেফতারের ভয়ে আছে। তাদের অনেককে দেশে ফিরতে হতে পারে। আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরুর আগেই মালয়েশিয়া পুলিশ আটক করেছে শতাধিক বাংলাদেশিসহ প্রায় তিন হাজার বিদেশি শ্রমিককে। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা ইমিগ্রেশনের বরাত দিয়ে জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯২ কর্মী এবং ৮৩ হাজার ৯১৯ জন নিয়োগদাতা বৈধকরণ প্রকল্পে নিবন্ধিত হয়। নিবন্ধিতদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩২ জন অবৈধ কর্মীকে বৈধতার অযোগ্য ঘোষণা করা হয় কিন্তু যে তিনটে ভেন্ডর কোম্পানিকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়, তাদের নাম ভাঙিয়ে বেশ কিছু নকল এজেন্ট বা দালাল বাংলাদেশিদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও কোনো কাজ না করে তাদের সঙ্গে বিরাট প্রতারণা করে।