দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

স্বাগতিক দেশ হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সতর্ক শুরুর ঘোষণাই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কারণটা হয়তো সাফের সর্বশেষ তিন আসরে বাংলাদেশ দলের পাফরম্যান্স। টুর্নামেন্টের সর্বশেষ তিন আসরের যে গ্রুপ পর্বের বাধাটাই পার হতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কিন্তু ১২তম আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মামুনুল-সুফিলদের পারফরম্যান্স যেন নতুন আশার সঞ্চার করেছে দেশের ফুটবলে।

৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রথম দিনই মাঠে নামে বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভুটান। প্রায় দুই বছর আগে এই এশিয়ান কাপের প্রাক বাছাইয়ে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরেই তলানিতে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল দল। কিন্তু সাফ ফুটবলে ভুটানকে পাত্তাই দেয়নি জেমি ডের শিষ্যরা। ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাফে দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছে স্বাগতিকরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে বাংলাদেশি ফুটবলাররা। দর্শকরা নড়েচড়ে বসার আগেই ভুটানের জালে বল জড়ায় বাংলাদেশ। দলের প্রথম গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। প্রথম মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ।

ওয়ালি ফয়সাল কর্নার কিক নেওয়ার সময় ডি বক্সের মধ্যে সাদউদ্দিনকে ফাউল করে বসেন ভুটানের ডিফেন্ডার থেরিং ধিরাজ। আর তাতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

পেনাল্টি কিক থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মন। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরতেও ধরা পড়ে প্রথমার্ধের অনুরূপ দৃশ্য। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটু ঝিমিয়ে পড়া বাংলাদেশকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দেখা গেল আরও শাণিত রূপে। বিরতি থেকে ফিরে এসে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের এক চমৎকার ভলি থেকে আসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি।

ভুটানের রক্ষণভাগকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন সুফিল। এরপরই ডান পায়ের জোরালো ভলিতে ভুটানের জালে বল জড়িয়ে দেন এই বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। আর তাতে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বশেষে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক। কিন্তু ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি লাল-সবুজের জার্সিধারীদের। দেড় দশকের ট্রফিশূন্যতাই নয়, সর্বশেষ তিন আসরের গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিন আসরে ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই বাংলাদেশের সঙ্গী হয় পরাজয়। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কিন্তু এবারের আসরে দুর্দান্ত সূচনা যেন গ্রুপ পর্ব পেরোতে হতে না পারার আক্ষেপটা ঘুচানোর ইঙ্গিতই দিচ্ছে!