জালালুদ্দিন হাক্কানির মৃত্যু: কত বড় এই নেটওয়ার্ক?

 হাক্কানি নেটওয়ার্ক নামে জিহাদি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জালালুদ্দিন হাক্কানি মারা গেছেন। আফগান তালেবান এক ঘোষণায় এই খবর জানিয়েছে, তবে কোথায় এবং কবে তিনি মারা গেছেন তা বলা হয়নি।

তালেবান এবং আল-কায়েদার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষাকারী ৭৯ বছর বয়স্ক মি. হাক্কানি আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গী নেতাদের অন্যতম বলে মনে করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন। খবর বিবিসির।

১৯৯০-এর দশকে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে জিহাদি প্রশিক্ষণ শিবির প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন এই জালালুদ্দিন হাক্কানি। এগারোই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর তিনি তার নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ তার ছেলের হাতে তুলে দেন।

হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তান থেকে কাজ করে, এবং নেটো ও আফগান বাহিনীর ওপর বহু বড় আকারের সন্ত্রাসী হামলার জন্য তাদেরকেই দায়ী করে থাকে।

বিবিসির বিশ্লেষক মাহফুজ জুবাইদ কাবুল থেকে জানাচ্ছেন, বৃদ্ধ জালালুদ্দিন হাক্কানি সম্ভবত সংগঠনটির পরিকল্পনা ও অপারেশনের ক্ষেত্রে সম্প্রতি আর সক্রিয় ছিলেন না। তবে মনে করা হয় যে সম্ভবত তিনি একজন উপদেষ্টার ভূমিকায় ছিলেন ।

তার মৃত্যু তাই হাক্কানি গ্রুপের জন্য এক বড় ক্ষতি। হাক্কানি নেটওয়ার্ক এখনো আফগানিস্তানে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভীতিকর জঙ্গী গ্রুপগুলোর একটি।

অনেকেই মনে করেন যে তাদের প্রভাব ইসলামিক স্টেট গ্রুপের চেয়েও বেশি।

এর আগেও কয়েকবার জালালুদ্দিন হাক্কানির মৃত্যুর গুজব বেরিয়েছিল, সম্ভবত সে জন্যই তালেবান তার মৃত্যুর খবরে ‘বয়সজনিত কারণে’ মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে।

জালালুদ্দিন হাক্কানির উত্থান হয় ১৯৮০-র দশকে আফগানিস্তানে দখলদার সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন গেরিলা নেতা হিসেবে। তালেবান তাকে ‘একজন দারুণ যোদ্ধা’ বলে প্রশংসা করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর কাছে খুব মূল্যবান একজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

তবে তালেবান ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করলে তিনি তাদের মিত্র হয়ে ওঠেন। পরে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হলে যেসব জঙ্গী গ্রুপ পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতীয় এলাকা থেকে সক্রিয় হয় – তার একটি ছিল হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

২০০১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতাচ্যুত হয়।

হাক্কানি নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে অনেকগুলো মারাত্মক আক্রমণ চালিয়েছে বলে মনে করা হয় – যার মধ্যে একটি ছিল কাবুলে ২০১৭ সালের ট্রাক-বোমা বিস্ফোরণ – এতে ১৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়।