আশুলিয়ায় অপহরণের ১৫ দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় অপহরণের ১৫ দিন পর সাগর হোসেন (১৯) নামে এক চা দোকানীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ নিহতের ২ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের মা খাদিজা বেগম বলেন , তার ছেলে সাগর আউকপাড়া এলাকার খালেক মার্কেটে চায়ের দোকান চালাতো। এ বছরের ২০ আগস্ট রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরে।

ফেরার পথে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে সাগরকে বাসা থেকে ডেকে নেয় অপহরণকারীরা। এঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানায় একটি একটি অভিযোগ দায়ের করেন তারা। পরে মুঠোফোনে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মুক্তিপণ হিসেবে ৮০ হাজার টাকা দাবী করে পরিবারের সদস্যদের কাছে। পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের শনাক্ত করেন এবং দুইজনকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যমতে আউকপাড়া এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে সাগর হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান আউকপাড়া এলাকার শাজাহান মিয়ার ছেলে ও শাহ হাসান একই এলাকার মোকসেদ হাসানের ছেলে।

আশুলিয়া থানার উপ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় সাগরের মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রেমঘটিত জের ধরে বন্ধুদের হাতেই বন্ধু নির্মম ভাবে খুন হয়েছে। আবার নিজেদের বাঁচাতে খুনিরা অপহরনের নাটক সাজায় এ ঘটনাকে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ মেহেদী হাসান ও শাহা হাসান নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ১৫ দিন পর জঙ্গল থেকে সাগর হোসেন নামে তরুনের ক্ষত বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মুল আসামী সাগর মিয়া পালাতক রয়েছে।

নিহত সাগর হোসেন আশুলিয়া আউকপাড়ার মৃত জাকির হোসেনর ছেলে। তার স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান ছিলো। সদ্য যোগদানকৃত আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক জানান, এঘটনায় সোমবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নিহত সাগরের বন্ধু মেহেদী হাসান ও শাহা হোসেনকে আটক করা হয়।

পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আউকপাড়া জঙ্গল থেকে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকান্ডটি প্রেম সংঘটিত ব্যাপার হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে বাকীদের আটকের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।