মির্জা ফখরুলের মাথায় গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে: হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের মাথায় গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন তারেক রহমান নাকি সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। এজন্যই নাকি তাকে গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আবার গতকাল মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন, তাদের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার জন্য নাকি ঠাকুরগাঁও সদর থানার ৮ নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে ও গ্রেফতার করা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় মির্জা ফখরুল সাহেবের মাথায় গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে। তিনি বলছেন সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে। আসলে তা নয়, তার মাথায়ই গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে।’

সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকার সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার জন্য নাকি ঠাকুরগাঁয়ে তল্লাশি চালানো হয়, ঢাকার কথা বললেও এটিকে যুক্তিসঙ্গত কথা বলা যেত। সমাবেশ করার চারদিন আগে তারা অনুমতি পেয়েছেন। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন চারদিন আগেও অনুমতি পেতাম না। আগেরদিন বিকাল বেলা অথবা রাতের বেলা অনুমতি পেতাম। চারদিন আগে অনুমতি পাওয়ার পর সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের জড়ো করেও আশানুরূপ সমাবেশ করতে পারেনি। এজন্য আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম যারা সমাবেশ করার জন্য অর্থ দিয়েছিল তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের ওপর নাখোশ হয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল নির্বাচন চান না এমন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান। এই বিশেষ পরিস্থিতি হলে যারা ফায়দা লুটে, তারাও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।’

তারেক রহমানসহ যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি গ্রেনেড হামলার একজন ভিকটিম। আমার শরীরে এখনও ৪০টি স্প্লিন্টার আছে। শতশত স্প্লিন্টার নিয়েও অনেকে বেঁচে আছে। দীর্ঘ একবছর বাসা থেকে কলমা পড়ে বের হতাম, যে আজ মনে হয় ফিরবো না। কারণ গ্রেনেড হামলার পর সেরকমই ছিল মানসিক অবস্থা। আমি এই গ্রেনেড হামলার ভিকটিম হিসেবে তারেক জিয়াসহ যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি। যেহেতু খালেদা জিয়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেহেতু তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। তাই আমি তাকেও শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং পৃষ্ঠপোষকতায় এই গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল এমন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যে কয়জন সরকারি কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে তারা কীভাবে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কীভাবে তারেক রহমান গ্রেনেডগুলো সরবরাহ করেছিল। এই গ্রেনেড সরকার ছাড়া অন্য কারও কাছে থাকার কথা না। কারণ এগুলো আর্জেস গ্রেনেড, এগুলো যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। অস্ত্রের কারবার যারা করে, সন্ত্রাসীরা, তাদের হাতে কিন্তু গ্রেনেড থাকার কথা নয়। এগুলো সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। সেই গ্রেনেড দিয়ে হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল শেখ হাসিনার জনসভায় এবং খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে এই গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। এমনকি এই গ্রেনেড কারাগারের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। কারাগারের ভেতরে এই গ্রেনেড গেল কীভাবে? এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং পৃষ্ঠপোষকতায় এই গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল।’

গ্রেনেড হামলার বিচার ও শাস্তির আওতায় খালেদা জিয়াকে অবশ্যই আনা উচিত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আজ অনেক বিএনপি নেতা, যেমন সাদেক হোসেন খোকা বিদেশে বসে খালেদা জিয়াকে রক্ষা করার জন্য বলেন, ‘ম্যাডাম এই ব্যাপারে জানতেন না’। আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় জানতেন শেখ হাসিনার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আশেপাশের বিল্ডিংয়ে উঠে পাহারা দিতেন। সেদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের কোনও নেতাকর্মীদের কোনও বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠতে দেয়নি। গ্রেনেড হামলার পর আহতদের উদ্ধারে যখন আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসে তখন তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। আলামত নষ্ট করা হয়। খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী। এতবড় একটি গ্রেনেড হামলা হলো আর এই কাজগুলো যে হলো সেটা তিনি জানতেন না? সেদিন যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তাদের কাউকে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। গ্রেনেড হামলার বিচার এবং শাস্তির আওতায় খালেদা জিয়াকে অবশ্যই আনা উচিত।”