একাই আট উইকেট নিলেন রিকশাওয়ালার ছেলে

সম্ভাবনা ছিল এশিয়া কাপের দলে ডাক পাওয়ার। কিন্তু হায়দরাবাদি পেসার মোহাম্মদ সিরাজকে পাঠানো হলো ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে। সুযোগ যেখানেই দেয়া হোক, ভারতীয় উঠতি এই পেসার নিজের জাতটা ভালো করে যেন চেনাবেনই। সেই কাজটাই করে দেখালেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একাই তিনি নিলেন ৮ উইকেট।

আইপিএলের সুবাদে ভারতীয় ক্রিকেটে গত বছরই বেশ আলোচনা উঠে আসে মোহাম্মসদ সিরাজের নাম। বিশেষ করে, সিরাজের বাবা ছিলেন রিকশাচালক। রিকশাচালকের ছেলের এভাবে লড়াই-সংগ্রাম করে উঠে আসার কারণে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এবার আবার সংবাদের শিরোনাম হলেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করলেন তিনি।

আইপিএলে ঝড় তোলার পর ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে লিস্ট ‘এ’ এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিলিয়ে এ নিয়ে সাতটি ম্যাচে মাঠে নামলেন সিরাজ। রোববার ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামীতে দুরন্ত বোলিংসহ সাত ম্যাচে সিরাজ তুলে নিয়েছেন মোট ৪১ উইকেট। এই নিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনবার। ইন্ডিয়া ‘বি’ দলের বিরুদ্ধে একটি মাত্র ওয়ানডে ম্যাচে উইকেটহীন থেকেছেন তিনি। বাকি সব ম্যাচের প্রতিটা ইনিংসে ন্যূনতম চারটি উইকেট নিয়েছেন এই হায়দরাবাদি।

ব্যাঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে চার দিনের প্রথম বেসরকারি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৯ রানের বিনিময়ে ৮ উইকেট নেন সিরাজ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ২৪৩ রানে আউট হয়ে যায়।

মিচেল মার্শ টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। মোহাম্মদ সিরাজ শুরুতে বোলিং করে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। পরে আরেকটি স্পেলে এসেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। ভাঙেন খাজা আর কুর্তিস প্যাটারসনের ৭৮ রানের জুটি। ৩১ রান করা প্যাটারসন আউট হয়ে যান।

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে উসমান খাজা কিন্তু সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১২৭ রান করে সিরাজের বলেই আউট হন তিনি। ২২৮ বলের ইনিংসে ২০টি বাউন্ডারি মারেন খাজা। এছাড়া ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মার্নাস ৬০ রান করে আউট হন। বাকিদের মধ্যে দু’অঙ্কের রান বলতে প্যাটারসনের ৩১ ও হল্যান্ডের ১২।

খাতা খুলতে পারেননি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। শূন্য রানে আউট হয়েছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব, মিচেল নেসের, ক্রিস ট্রিমেন ও ব্রেন্ডন ডগেটও। ট্রাভিস হেড এবং অ্যালেক্স ক্যারি ৪ রান করেন।

সিরাজের আট উইকেট ছাড়া অস্ট্রেলিার অপর দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠিয়েছেন কুলদীপ যাদব। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনের শেষে ভারত প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ৪১ রান। মায়াঙ্ক আগরওয়াল ৩১ ও আর সামর্থ ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।