স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতেই কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন করা। কেননা, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রীসভায় স্থান দেয়া হয়েছে, অনেককে রাষ্ট্রদূত করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এগুলো ছিল জাতির জন্য কলঙ্ক। আমরা জাতির সেই কলঙ্ক মোছনের চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, বাঙালির সব আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতেই কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে নির্মিত ‘৭ মার্চ ভবন’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের এই ভবনের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ৭ মার্চ ভবনের উদ্বোধন করেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান।

ঢাবি প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর নাসরিন আহমেদ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. কামালউদ্দিন এবং রোকেয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. জিনাত হুদা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জাতীয় অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোকেয়া হলের দুই ছাত্রী লিপি আক্তার ও শ্রাবণী ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

সংগীত ও নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার আলোকে অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। এর আগে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ৭ মার্চ ভবন উদ্বোধন করেন। তিনি জাদুঘর পরিদর্শন এবং পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনে সক্ষম এই ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা। ভবনের রয়েছে পাঁচতলা প্রশাসনিক ব্লক, সার্ভিস ব্লক ও জাদুঘর।

জাদুঘরে ৭ মার্চের ভাষণ, বাঙালিদের সশস্ত্র সংগ্রামের বিরল ছবি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান সংক্রান্ত তথ্য রাখা হয়েছে।