দুঃসময়ে তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদত্যাগের ঘোষণা

 তুরস্কের অর্থনীতির দুঃসময়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ইকরান কিলিমচি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে তুর্কি মুদ্রা লিরা আরো বেশী মান হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং প্রধান মান নিয়ন্ত্রক ইকরান কিলিমচি তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

দ্যা ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব তুর্কি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেশটির উন্নয়নে সহযোগিতা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তুরস্ককে সহয়তা করে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি কিছু নথি পত্র প্রকাশ করেছে যাতে দেখা যাচ্ছে যে ইকরান কিলিমচি তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দান করেছেন।

তুর্কি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জনিয়েছেন, ইকরান কিলিমচির পদত্যাগ নিয়ে ব্যাংকটির প্রশাসন বিভাগের কোনো দ্বিমত নেই।

রয়টার্সকে তাদের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ‘তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাথে সুদের হার বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কিলিমচির কোনো রকম দ্বিমত সৃষ্টি হয়নি।’

‘তার দক্ষতা এখন দেশটির অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে, এটাই শেষ কথা।’

ইকরান কিলিমচির পদত্যাগের খবর ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় তুর্কি মুদ্রা লিরা পুনরায় মূল্য হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনার মধ্যে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা সিএনবিসি একটি প্রতিবেদনে জানায়, ২০০৯ সালের মার্চ মাসের পরে এই প্রথম আবার তুরস্কের অর্থনীতির উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিম্ন অবস্থানে রয়েছে এতে করে লিরার মান নিম্নমুখি হচ্ছে।

ইকরান কিলিমচি এমন সময় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, যখন তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর দুই সপ্তাহ পরে সুদের হারের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ১৩ সেপটেম্বর লিরার মান পুনরুদ্ধার কল্পে নতুন সুদের হারের ঘোষণা দেয়ার জন্য এক বৈঠকে বসবে।

তুর্কি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান যিনি সবসময় সুদের হার বাড়ানোর বিপক্ষে ছিলেন তার চাপের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান যিনি নিজেকে ‘সুদের হারের’ একজন শত্রু বলে দাবি করেন, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে করে ডলারের বিপরীতে লিরার মানের পুনরুদ্ধার হয়। প্রসঙ্গত চলতি বছরে লিরা ডলারের বিপরীতে ৪০ শতাংশ মান হারিয়েছে।

তুরস্কের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে সেখানকার খাদ্য সামগ্রী এবং তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছে। এতে করে দেশটির ব্যাংকগুলোর মধ্যে উদ্বিগ্নতা বেড়েছে এবং এর প্রভাবে দেশটির সীমান্ত অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর এরদোগানের প্রভাব এবং আঙ্কারার সাথে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়নের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে অসন্তোষ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

সূত্রঃ এক্সপ্রেস