আশুলিয়ায় তিনটি প্রাইভেট ক্লিনিকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : প্রায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা, দু’টি ক্লিনিক সিলগালার নির্দেশ

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় ৩টি প্রাইভেট ক্লিনিকে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ক্লিনিক গুলোর বিভিন্ন অনিয়ম ও অনুমোদনহীন হাসপাতাল পরিচালনার অভিযোগে দু’টি ক্লিনিককে সিলগালা সহ তিনটিতে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়েরসহ ৩জনকে আসামী করেন।


অভিযানে ডেন্ডাবর গণি জেনারেল হাসপাতাল নামে ক্লিনিককে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা ও ওই ক্লিনিকের মেসার্স অনন্যা মেডিসিন কর্নার নামে একটি ফার্মেসীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়, হাসপাতালের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আসাদ উল্লাহ কে আসামী করে মামলা দায়ের ও হাসপাতালটি সিলগালা করে দেন ।

পরে পাশর্^বর্তী পলাশবাড়ি হাবিব ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ক্লিনিকটির ম্যানেজার বিলু দাসকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। জরিমানা টাকা অনাদায়ে ম্যানেজারকে ৩ মাসের জেল হাজতের নির্দেশ দেন। এছাড়া ক্লিনিকটির ব্লাড শাখার কাজের কোন অনুমতি না থাকায় সেটি বন্ধের নির্দেশ দেন।

পরে ওই এলাকার মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালায়। এসময় হাসপাতালের এক্সরে মেশিন পরিচালনায় পরমানু শক্তি কমিশনের অনুমতি না থাকা, অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ন সার্জিক্যাল আইটেম দিয়ে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা সহ অপারেশন থিয়েটার শীতাতপ না থাকা অপারেশন থিয়েটারে অপরিচ্ছন্ন বর্জ্য উন্মুক্তভাবে রাখার দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসীতে অনুমোদনহীন ঔষধ ও হাসপাতাল পরিচালনায় যথাযথ পরিবেশ না থাকায় ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ সর্বমোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ঘটনায় হাসপাতালের ম্যানেজার সুলতান ইসলাম কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত আশুলিয়ার নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের ডেন্ডাবর(পল্লীবিদ্যূৎ), পলাশবাড়ী এলাকায় র‌্যাবের এ অভিযানটি পরিচালিত হয়। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল বোর্ড এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক্স হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ দেওয়ান মোঃ মেহেদী হাসান ও ঔষধ অধিদপ্তরের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মুহিত ইসলাম সহ র‌্যাব-৪ এর একটি অভিযানিকদল।

পলাশবাড়ি হাবিব ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অভিযানকালে দেখতে পান অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ন সার্জিক্যাল আইটেম, ফার্মেসীতে মেয়াদোত্তীর্ন ঔষধ ও অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রি হাতেনাতে ধরেন। ব্লাড শাখার অনুমতি না থাকায় সেটি বন্ধের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এর আগে ডেন্ডাবর গণি জেনারেল হাসপাতালটির পরিচালনায় লাইসেন্স না থাকা, অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ন সার্জিক্যাল আইটেম থাকা, অনন্যা মেডিসিন কর্নারে মেয়াদোত্তীর্ন ঔষধ রাখা ও বিক্রির প্রমান পাওয়ার দায়ে সিলগালা করে দেন। পলাশবাড়ি মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালেও হাসপাতাল পরিচালনায় অনুমতি না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে মামলাসহ সিলগালা করে দেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব এর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিডিয়া প্রতিনিধিদের সামনে ব্রিফিংকালে বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। যেখানেই আমরা অভিযোগ পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান পরিচালিত হবে। সেজন্য মিডিয়া প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা বা পদ্ধতি সন্দেহভাজন হলে সে বিষয় খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দেন।