সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন চায়: মান্না

 ‘সরকার নিজেও চাই আপনারা নির্বাচনে না যান। কারণ তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন চায়’ মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার জাতীয় মহা ঐক্য ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাগরিক ঐক্যের এই আহবায়ক বলেন, ‘আবেগ দিয়ে কখনো যুদ্ধে জয় লাভ করা যায় না। খালেদা জিয়া ছাড়া এই নির্বাচন হবে না, নির্বাচনের আলোচনাও করা যাবে না, আমরা নির্বাচনে যাবো না- এটা বলে লাভ নেই। সরকার নিজেও চাই আপনারা নির্বাচনে না যান। কারণ তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন চায়।’

আইনজীবী পরিষদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বেগম খালেদা জিয়াকে বলেছেন, যাই হোক না কেন, আপনাকে এক মাসের বেশি রাখতে পারবে না। কিন্তু ছয় মাসের বেশি পার হয়ে গেছে আপনারা তাকে বের করতে পারেননি। আপনারা গ্যারেন্টি দিতে পারবেন তাকে নির্বাচনের আগে বের করে আনতে পারবেন? যদি না পারেন আপনারা নির্বাচনে যাবেন না। সরকার তো তাই চায়।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সরকার ইভিএম এ এতো জোর দিচ্ছে কেন জানেন? কারণ তারা জানে ইভিএম হ্যাক করা যায়, আপনারা যতোই নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করেন না কেন, সকল মানুষকে ফাঁকি দিয়ে ১০০ আসন জয় নিশ্চিত করার কৌশল সরকার করে রেখেছে। শুধু সরকার নয় সরকারের নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সাথে ফরটোয়েন্টি করছে।’

ইভিএম নিয়ে সরকারের নিজের ঘরে আগুন জ্বলছে মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য সরাসরি বলেছেন এই পদ্ধতি দেয়া যাবে না কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার ইভিএম ব্যবহারে জোর দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গতবার আপনারা নির্বাচন বর্জন করেছেন তারা ১৫৩ আসন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে এবার নির্বাচনে যদি অংশ নেন তারা পাস করবে কিভাবে? তাই ইভিএমের মাধ্যমে ১০০ আসন নিশ্চিত করছে বাকিটা অন্য কৌশলে।’

অ্যাডভোকেট ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদী সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসার এমাজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।