সফটওয়্যার রফতানি আয় কমেছে

: দেশে তৈরি সফটওয়্যার রফতানি আয় কমেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ১২ মিলিয়ন (১১.৯২) ডলার সফটওয়্যার রফতানি কম হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। যদিও সরকার এই তথ্য মানতে নারাজ। সরকার বলছে, ইপিবির এই তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়। সফটওয়্যার নির্মাতাদের সংগঠন বেসিসও এই তথ্য মানতে নারাজ।

ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৯৩.৯৩ মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার রফতানি হয়েছে। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৮২.০১ মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার রফতানি হয়েছে। যদিও সরকার এবং বিভিন্ন সংগঠন বরাবরই দাবি করে আসছে, ইপিবির দেওয়া এই তথ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের রফতানির সামগ্রিক হিসাব নয়। এই হিসাবের বাইরে আউটসোর্সিং খাতের আয়, কলসেন্টার, মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশনসহ অন্যান্য খাতের আয় রয়েছে যা ইপিবির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নেই। বরং সরকার মনে করে সফটওয়্যার রফতানিতে লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে দেশ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য নির্মাতাগুলোর বিভিন্ন সংগঠনের হিসাবে, গত বছরেই ৮০০ মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার রফতানি করেছে বাংলাদেশ। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তা এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছুবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো যে তথ্য দেয় তার কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। গত অর্থবছরে দেশে কোনও ধরনের সমস্যা হয়েছে বলে জানা নেই। যা হয়েছে তা ইতিবাচক। এ খাতে ব্যক্তিগত আয় বেড়েছে,আউটসোর্সিং থেকেও আয় বেড়েছে। ফলে কোনোভাবেই রফতানি আয় কমেছে তা বলা যাবে না।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘জাপান ও আফ্রিকায় আমাদের একসেস বেড়েছে। সেখানে দেশের বাজার বড় হচ্ছে। ফলে সফটওয়্যার রফতানি আয় কমেছে তা বলার কোনও যৌক্তিক কোনও কারণ আমি দেখি না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সফটওয়্যার রফতানিতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণার পর এই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন ও অগ্রগতি দেখেছি। ফলে এই খাতের নেতিবাচক তথ্য কোনোভাবেই মানা সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, সরকারের টার্গেট ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য রফতানি করা।