ভাগ্য বদলাতে কম্পিউটার গ্রোগ্রামিং এ ঝুঁকছে গাজার তরুণ তরুণীরা

: যখন অধিকৃত এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার কথা মনে আসে তখন ‘গ্লোবাল টেক হাব’ এমন শব্দগুলি কারো কারো মনে বসন্তের ছোঁয়া দিতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ফিলিস্তিনের এই ক্ষুদ্র এলাকার যেখানে মাত্র ১.৮ মিলিয়ন মানুষের বসবাস সেখানকারই কিছু তরুণ ফিলিস্তিনি গাজা সম্পর্কে এমন দৃষ্টিভঙ্গির অবসান ঘটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গাজাতে অবস্থিত সফটওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্কাই গ্রিক গি গ্রাফিটি ক্লাড’ এর মূল ভবনে তরুণ কম্পিউটার প্রোগ্রামারদেরকে যুদ্ধের নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মধ্যে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু তাদের হালের ফ্যাশন স্বরুপ এই অফিসটি বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে সংঘাত পূর্ণ শহরে অবস্থিত।

সেখানকার তরুণ-তরুণীরা হাতে ল্যাপটপ নিয়ে দিন রাত তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা কিছু উৎসাহমূলক উদ্ধৃতিকে সামনে রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন, (‘নতুন অভিযানকে হ্যাঁ বলো’), হলিউড ছবি পাইরেটস অফ দ্যা ক্যারেবিয়ান থেকে, অ্যামাজনের লোগো থেকে, গুগল এবং মাইক্রোসফট থেকেও তারা উৎসাহ গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে চলছেন।

গাজার তরুণদেরকে কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ২০১১ সালে গুগল এবং ‘মার্সি কর্পস চ্যারিটি’ নামক সংস্থার সাহায্য নিয়ে এমন উদ্যোগের শুরু হয়েছিল। গাজা যেখানকার অর্ধেকেরও বেশী জনসংখ্যার বয়স ২৯ এর নিচে এবং সেখানকার প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ বেকার জীবন পার করছেন, যা এই বিশ্বের মধ্যে বেকারত্বের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
গত বছরে তারা লন্ডন ভিত্তিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোম্পানী ‘ফাউন্ডারস এন্ড কোডারস’ গাজায় প্রথম কোডিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে। বর্তমানে এটিকে তারা ফিলিস্তিনের পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।

২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে গাজার বেশীরভাগ তরুণেরা গাজা উপত্যকার বাহিরে যেতে পারেনি, কারণ সে সময় থেকে ইসরায়েল এবং মিসর গাজার উপর অবোরোধ আরোপ করে আসছিল।
এখন ‘গায়া স্কাই গিকস’ আশা করছে, তারা অক্টোবরে পশ্চিম তীরে সেখানকার প্রথম কোডিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করবে এবং সেখানে তাদের কিছু সেরা কোডারকে প্রেরণ করবে যদি ইসরায়েল তা করতে অনুমতি দেয়।

‘গায়া স্কাই গিকস’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোয়ামিন আবু এওয়াইদা জানান, জনগণ ইন্টারনেটের ব্যাপারে চিন্তা করতে শুরু করে দিয়েছে হতে পারে সেটা প্রোগ্রামিং কোডিং, ফ্রিল্যান্সিং, নতুন উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত সেবা। অবরোধ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সামনে একমাত্র পথ হিসাবে ইন্টারনেটই খোলা আছে। এখানে ইন্টারনেটের উপর কোনো অবরোধ নেই।’
গত বছর তারা ছয় মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মসূচী হাতে নিয়েছিল যাতে করে ২০১৪ সালে ইসরাইল কর্তৃক আগ্রাসনে নিঃস্ব হওয়া জনগণ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

সেসময় ৫০ দিনব্যাপী চলমান সংঘাতে ২,১০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং ৬৬ জন ইসরাইলী সেনা ও ৭ জন ইসরাইলী বেসামরিক জনগণ নিহত হয়েছিল। বর্তমানেও আবার সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল তবে জাতি সংঘ এবং মিসরের প্রচেষ্টার ফলে দুই পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাত থেকে রক্ষা পায়।

‘চূড়ান্তভাবে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গাজাকে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের একটি প্রযুক্তির শহরে রুপান্তর করা’ আবু এওয়াইদা এমনটি বলেন।
মার্সি কর্পস এর মিস সাফি নামের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করি যে, পশ্চিম তীওে ‘গায়া স্কাই গিক’ এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে শহরটি উপকৃত হবে কারণ এখানেও তীব্র বেকারত্ব রয়েছে। এখানে প্রতি বছর হাজারেরও বেশী স্নাতক ডিগ্রী ধারী বের হচ্ছে যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো পথ নেই।’

গাজাতে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং অনেকের জীবনকেই বদলে দিয়েছে। হানিয়েন শাহাওয়ান নামের ২৫ বছর বয়সী একজন নারী যিনি স্নাতক পাশ করার পর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তিনি এখন একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী।