শপিংয়ের জন্য পৃথিবীর সেরা ১২ শহর

কেনাকাটা করতে কার না ভালো লাগে! দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে তো কথাই নেই। মন জুড়ানো ও উপভোগ্য শপিংয়ের জন্য কিছু শহর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। ফ্যাশন বাণিজ্য সংস্থা ডানগার ক্রিয়েটিভ সার্ভিসেস ও গ্লোব শপার সিটি ইনডেক্সের প্রকাশনা সংস্থা গ্লোবাল ব্লু’র সিনিয়র মুখপাত্র ম্যারি বার্গফেল্টের পরামর্শ নিয়ে এমন কিছু শহর নির্বাচন করেছে সিএনএন।

গণপরিবহনের মান, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ক্যাব সেবা আর কম সময়ে যাতায়াত, দর-কষাকষির সুবিধা, উল্লেখযোগ্য সব ব্র্যান্ডের উপস্থিতি, শপিংয়ের পরিসর, দোকানের সংখ্যা, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, বুটিক ও পুরনো খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, শহরের সৌন্দর্য, পণ্য উপস্থাপনের ধরন, দোকানের সাজসজ্জা, বিক্রেতার বন্ধুসুলভ দক্ষতা, খাবার ও থাকার সুযোগ; এসব বিবেচনা করে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে ১২টি শহরকে।

১২. সিউল

কেনাকাটায় দক্ষিণ কোরিয়ার ভীষণ আসক্তি! সারাবিশ্বের আর কোনও দেশ শপিং নিয়ে এতটা সিরিয়াস নয়। অন্য যেকোনও দেশের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি লেনদেনের রেকর্ড গড়েছিল এই শহর। কারণ যত কম দামই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ড ছাড়া কেনাকাটা করা যায় না দক্ষিণ কোরিয়ায়। সিউলে রাস্তার পাশে মার্কেট যেমন মিলবে, তেমনই বিলাসবহুল শপিং মল আছে প্রচুর। বিদেশি পণ্যের দাম বেশি সেখানে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বুটিক মিলবে স্বল্প মূল্যে। পুরনো দিনের জিনিস থেকে শুরু করে নিত্যনতুন সব পণ্য হাতের নাগালে পেতে হলে যেতে হবে সিউল ফোক ফ্লিয়া মার্কেট, নামদায়মান মার্কেট ও জিয়ংডং মার্কেটে।


মিলানে মিলবে প্রাডা, ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা ও ভার্সেসের মতো অনেক আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শোরুম
১১. মিলান
প্রাডা, ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা ও ভার্সেসের মতো অনেক আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ঘর বলা যায় ইতালির মিলানকে। তবে স্থানীয় দোকানেও পরিপূর্ণ সুন্দর শহরটি। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা কোয়াদ্রিলাতেরো দেলা মোদা। ফ্যাশনের জন্য এই জায়গাকে বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়। সেখানে আছে সারি সারি জুয়েলারি, বুটিক ও লাইফস্টাইল সম্পর্কিত সামগ্রীর শোরুম। মিলানের সবচেয়ে পরিচিত ও পুরনো আউটলেট ইল সালভাজেন্ত তিন তলা জুড়ে ৬০ শতাংশ ছাড়ে পণ্যের পসরা সাজিয়ে থাকে। মিলানের ফ্যাশন ট্রেন্ড বরাবরই অন্য যেকোনও দেশের চেয়ে কয়েক মাস এগিয়ে।

কেনাকাটায় মাদ্রিদের ফুটপাত পর্যটকদের চোখে অপূর্ব১০. মাদ্রিদ
স্পেনের মাদ্রিদে সেরা দামেই বিলাসবহুল পণ্য পাওয়া যায়। এই শহরের বিখ্যাত ব্র্যান্ড ক্যাপাস সেসেনা’র কথা না বললেই নয়। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত দোকানটিতে মিলবে ঐতিহ্যবাহী উল, তুলা ও মখমল কাপড়ের পোশাক। জেমস বন্ড তারকা পিয়ার্স ব্রসনান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারী ক্লিনটন সেখানে শপিং করেছিলেন। এছাড়াও বিখ্যাত চিত্রকর পাবলো পিকাসোর কফিন কেনা হয়েছিল এই দোকান থেকে। পুরনো জিনিসপত্রের জন্য মাদ্রিদে যেতে পারেন ক্যাসা ডি ডিয়েগোতে। শহরটির ফুটপাত পর্যটকদের চোখে অপূর্ব।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শপিং মল দুবাইয়ে৯. দুবাই
শপিংয়ের জন্য দুবাই মলকে একরকম রাজ্যই বলা যায়! আয়তনের দিক দিয়ে এটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিপণি বিতান। দেখে মনে হবে— শপিং মলের ভেতর যেন অনেক শপিং মল! থিম পার্ক, পানির ফোয়ারা, ঝরনা, অল্পিম্পিক আকারের বিশাল বরফ বল, অ্যাকুরিয়াম; সবই মিলবে সেখানে। ফ্রান্সের গ্যালারি লাফায়েত থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট স্টোর ব্লুমিংডেলের শাখাও আছে দুবাই মলে। প্রতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুবাই শপিং উৎসব আয়োজন করে বিপণি বিতানটি। তখন ইলেক্ট্রনিক্স, পোশাকসহ জনপ্রিয় সব পণ্যেই থাকে ৭০ শতাংশ ছাড়! মল অব দ্য এমিরেটসে মিলবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ইনডোর স্কি রিসোর্ট।

ভিয়েনায় একটু তাড়াতাড়িই শপিংয়ের দোকানপাট বন্ধ হয়৮. ভিয়েনা
ইউরোপের অস্ট্রিয়ার এই শহরে কেনাকাটা কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই থাকতে হয় কৌশলী। শতবর্ষী নাশমার্কেটে দেড় কিলোমিটার জুড়ে মিলবে ১২০টি বিশাল আকারের খাবারের দোকান। বিভিন্ন মিষ্টান্ন থেকে শুরু করে সামুদ্রিক খাবারও আছে সেখানে। বড়দিনের সময় ভিয়েনায় ক্রেতাদের জন্য হাতের কারুকাজ করা জুয়েলারি ও খেলনা সামগ্রীতে থাকে বিশেষ ছাড়। তবে ভিয়েনায় একটু তাড়াতাড়িই শপিংয়ের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

লেদার ও জুয়েলারির জন্য বিখ্যাত বুয়েন্স আয়ার্স৭. বুয়েন্স আয়ার্স
আর্জেন্টাইনরা স্টাইলের পাগল! উচ্চমানের লেদারের পণ্য সাশ্রয়ী দামে কিনতে লিওনেল মেসির দেশের বিকল্প নেই। বুয়েন্স আয়ার্সে ১৯৫২ সালে গড়ে ওঠা মোকাসিনেস গিডো পুরুষদের জন্য বানানো লেদারের জুতা বিক্রি করে। শহরটিতে এখন তাদের তিনটি শাখা। এছাড়া ক্যালে মুরিলো সড়কে লেদারের পণ্যের পসরা সাজানো দোকানের অভাব নেই। একইসঙ্গে সেখানে মিলবে দর্জি সেবা।

এশিয়ার সেরা শপিং শহর হংকং৬. হংকং
শহরটির দোকানিরা কিন্তু রীতিমতো উত্ত্যক্তকারী! কাঙ্ক্ষিত পণ্য কোথায় মিলবে তা যদি ক্রেতাদের জানা না থাকে, তাহলে তা না পাওয়া পর্যন্ত সেখানকার দোকানিরা পিছু লেগেই থাকে! কী চাচ্ছেন সেটাও যদি জানা না থাকে তাহলে তারাই আপনাকে বলে দেবে। তবে দর কষাকষির ওপর তা নির্ভর করে। গ্লোবাল শপার সিটি ইনডেক্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হংকংয়ের ৮৭ শতাংশ পর্যটক কেনাকাটা করে। এর মধ্যে ৭৬ শতাংশই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। শপিংয়ের জন্য এশিয়ার সেরা শহরের স্বীকৃতি হংকংয়ের দখলে।

পণ্যের মাধ্যমে প্যারিস যেন লাইফস্টাইলই বিক্রি করে৫. প্যারিস
প্যারিসের সেরা দোকানগুলো পোশাক নয়, যেন লাইফস্টাইলই বিক্রি করে! এর মধ্যে অ্যানিক গঁতার সুগন্ধি আর স্টেলা ম্যাককার্টনি ও ইভস সেন্ট লঁরাসহ নির্বাচিত ডিজাইনারদের পণ্য রয়েছে অদ্ভুত কনসেপ্টে সাজানো ‘মেসি’তে। এই দোকানে বড়সড় ছাড়ও আছে। ফেলনা কিন্তু দৃষ্টিনন্দন অনেক পণ্যও পাওয়া যায় সেখানে। ফ্রান্সের এই শহরে কম দামে বিখ্যাত ডিজাইনারদের জিনিস বিক্রি করে কলেট। প্যারিসে ১৮৩৮ সালে গড়া ‘লে বোন মার্শে’ পৃথিবীর প্রথম আধুনিক ডিপার্টমেন্ট স্টোর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রসাধনীর ডিপার্টমেন্ট স্টোর প্রিন্টেম্পসও এই শহরে। এছাড়া গ্যালারি লাফায়েতে না গেলে মিস করবেন! প্রতি শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় সেখানে উন্মুক্ত ফ্যাশন শো হয়। তবে আগে থেকে আসন সংরক্ষণ রাখতে হয় ই-মেইলে (welcome@galerieslafayette.com)।

বিশ্বের দীর্ঘ ১০ শপিং মলের তিনটিই কুয়ালালামপুরে৪. কুয়ালালামপুর
বিশ্বের দীর্ঘ ১০ শপিং মলের তিনটিই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। এর মধ্যে ওয়ান উতামা আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর চতুর্থ বড় বিপণি বিতান। সেখানে আছে ৬৫০টি দোকান, এশিয়ার সবচেয়ে বড় ইনডোর রক ক্লাইম্বিং সুবিধা, সুবিশাল ছাদবাগান, ইনডোর বনাঞ্চল, বিশুদ্ধ পানির অ্যাকুয়ারিয়াম। উচ্চমানের জিনিস, সাশ্রয়ী মূল্য ও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় কুয়ালালামপুরে কেনাকাটা বরাবরই পর্যটকদের কাছে আনন্দদায়ক

লন্ডনের ডিপার্টমেন্ট স্টোর লিবার্টিতে চমকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু পাওয়া যায়৩. লন্ডন
বিশ্বের শীর্ষ ফ্যাশন শপিং গন্তব্যের তালিকায় ওপরের সারিতে আছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। যদিও এই শহরের শপিং এলাকায় যাতায়াতের জন্য ক্যাবের ভাড়া দিতে হয় প্রচুর। অবশ্য কেনাকাটার মান আর আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ড সহজলভ্য হওয়ায় লন্ডন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এই শহরের ডিপার্টমেন্ট স্টোর লিবার্টিতে ক্রেতাদের ভিড় থাকে বেশি। সেখানে এমন অনেক কিছু পাওয়া যায় যা চমকে দেওয়ার মতো!

টোকিওতে শপিংয়ের সেরা অভিজ্ঞতা হয় ডিপার্টমেন্ট স্টোরে২. টোকিও
জাপানের এই শহরে ডিপার্টমেন্ট স্টোরেই শপিংয়ের মূল অভিজ্ঞতা হয়। টোকিওর শিনজুকু ওয়ার্ডের বিশাল দোকান ইসেতান দুটি ব্লকের আটটি পৃথক ভবনে অবস্থিত। সেখানে ইংরেজি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ কর্মী আছে। জুতা থেকে শুরু করে মাছ পর্যন্ত কেনার ক্ষেত্রে পরামর্শ নেওয়ার উপদেষ্টাও মিলবে ইসেতানে। গ্লোবাল শপার সিটি ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ায় সবচেয়ে সস্তায় কেনাকাটার শহরের দিক দিয়ে টোকিও চতুর্থ।

ফ্যাশন ইতিহাসের গত শতাব্দীর সব যুগের জিনিস মিলবে নিউ ইয়র্কে১. নিউ ইয়র্ক
স্টাইলের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই শহরের বৈচিত্র্যের খ্যাতি আছে দুনিয়াজোড়া। ডিজাইনারদের শোরুম তো আছেই, একইসঙ্গে প্রাচীন জিনিসপত্রের জন্য নিউ ইয়র্কের তুলনা হয় না। এক্ষেত্রে রেয়ার ভিনটেজ শোরুমে গেলে অনন্য সব পণ্য মিলবে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাশন ইতিহাসের গত শতাব্দীর সব যুগের জিনিস। এছাড়া ডিওর, গিভেনচি, পিয়েরে কারডিনসহ বিখ্যাত ডিজাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের পোশাক আছে সেখানে। এই শহরের বিশাল ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোতে বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটা করা যায়।