অনলাইনে নিরাপদ থাকার প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যাতে অনলাইনে নিরাপদ থাকতে পারেন সেজন্য তাদের প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে ব্যবহার করলে নিরাপদ থাকা যাবে, অন্যকে নিরাপদ থাকতে কীভাবে উৎসাহিত করা যাবে এসব  বিষয়ে কৌশল শেখানো হবে প্রশিক্ষণে। একই সঙ্গে নিরাপদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সরকার মনে করছে, দেশে প্রযুক্তির বিস্তারের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। দেশে যত মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের বড় একটা অংশই এখনও প্রযুক্তি সম্পর্কে ততোটা জ্ঞান রাখে না। ফলে বিভিন্ন সময় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যক্তি বিশেষকে সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টির কারণে শাস্তির মুখেও পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তিজ্ঞান কম থাকায় অন্যরা সেই সুযোগ নিয়ে ‘টার্গেট’ ব্যক্তিকে বিপদে ফেলছে। এসব সমস্যা দূর করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় অনলাইন দুনিয়া বিশেষ করে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অস্থির হয়ে ওঠে। এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে, বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। জনগণকে উত্তেজিত করতে উসকানি দেওয়া হয়েছে। ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ। এসব ঘটনা যেন আর না ঘটে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যাতে কেউ কারও অনিষ্ট করতে না পারে— এই প্রশিক্ষণে সেসব শেখানো হবে।  এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্যও এই প্রশিক্ষণ বড় একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে সব সময়ই কোনও না কোনও প্রশিক্ষণ চলছে। প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ, কল সেন্টার কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরির মতো অসংখ্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আইসিটি বিভাগ। এসব প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সেইসঙ্গে এর সতর্কতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আইসিটি বিভাগ এই বিষয়ের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিটি বিভাগ এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল হিসেবে একটি পুস্তিকা তৈরি করেছে। ওই পুস্তিকায় প্রশিক্ষণের যাবতীয় বিষয়া যুক্ত করা হয়েছে। পুস্তিকাটি অনুসরণ করলে অনলাইনে নিরাপদ থাকা যাবে বলে অভিমত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি ও ফেসবুক ‘সাক্ষরতার’ এই বিষয়টিকে সময়ের চাহিদা হিসেবে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষ অনলাইন ব্যবহারে একদমই সচেতন নন। অনলাইনে কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়, অনলাইনকে কীভাবে জঞ্জালমুক্ত রাখা যায় এসব বিষয়ে একদমই সচেতন নন তারা। আমাদের কাজটি মূলত সচেতনতা তৈরির।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শুধু সচেতন করলেই হবে না, তাদের (ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের) প্রযুক্তিতে সাক্ষর করে তুলতে হবে। এজন্যই বই তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশনা মেনে চললে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মনে করেন, ‘প্রযুক্তিকে রোধ করা যাবে না। রোধ করলে পাল্টা অ্যাকশন হবে। যা সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। তাই কল্যাণকর বিষয়ের জন্যই তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, ‘প্রশিক্ষণে যারা অংশ নেয় তাদের মধ্যে শতভাগই হচ্ছে তরুণ। এই তরুণরা যাতে বিপথে না যায়, অনলাইনকে ভাগাড় না বানায়, ঝুঁকিপূর্ণ করে না তোলে— সেজন্য প্রশিক্ষণের এই উদ্যোগ।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদেরও এই বই দেওয়া হতে পারে। অনলাইন ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারের সময় যাতে কোনও ধরনের বিব্রতকর অবস্থা তৈরি না হয় সেজন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে এই বই গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি বিভাগে যেকোনও প্রশিক্ষণের সময়ও দেওয়া হবে বইটি।