পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিলেন ৬৫ বছর বয়সি ইমরান খান। এর আগে শুক্রবার এমপিদের ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

শুক্রবার দেশটির জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি হয়। নির্বাচনে তেহরিকে ইনসাফ পার্টির নেতা ইমরান খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুসলিম লিগের (নওয়াজ) প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ। পার্লামেন্টে ইমরান খান পেয়েছেন ১৭৬ ভোট, অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ পেয়েছেন ৯৬ ভোট।

দেশটির সংবাদ মাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ইমরানকে ঠেকানোর জন্য বিরোধী পক্ষ জোট করার চেষ্টা করে। তবে তা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। কারণ পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ভোটদানে বিরত থেকেছে। এ ছাড়া মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল (এমএমএ) এবং জামায়াত-ই-ইসলামীও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে কাউকে ভোট দেয়নি।

ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটি শুরুর আগে ইমরান ও শাহবাজ শরিফ করমর্দন করেন। ভোটাভুটির প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন জাতীয় পরিষদের নতুন স্পিকার আসাদ কায়সার। তিনি বলেন, ‘যারা ইমরান খানকে ভোট দিতে চান, তারা আমার ডান পাশের লবিতে চলে যান। আর যারা শাহবাজ শরিফকে ভোট দিতে চান, তারা আমার বাঁয়ে যান।’

স্থানীয় সময় বিকেলে এই ভোট শুরু হয়। শুরুতেই ভোট দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্পিকার আসাদ কায়সার জাতীয় পরিষদের সদস্যদের সতর্ক করেন এবং নির্দেশ না মানলে বহিষ্কারের হুমকি দেন।

গত ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে মোট ৩৪২টি আসনের মধ্যে ১৫৮টি আসন পেয়েছে ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পিটিআই। যার মধ্যে ১১৬টি আসন নির্বাচনে জিতেছে ইমরান খানের দল। পিটিআইয়ের শরিক হয়েছে ৯ স্বতন্ত্র সংসদ। বাকি সংরক্ষিত আসনে ২৮ জন নারী এবং ৫ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংসদ প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়া নওয়াজ শরিফের দলের রয়েছে ৮২টি আসন। পাশাপাশি বিলওয়ালের পিপিপি পেয়েছে ৫৪টি আসন।

গত ১৩ আগস্ট পার্লামেন্টের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত সদস্যরাই গত বুধবার নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করেন। পিটিআইয়ের নেতা আসাদ কায়সার পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হন। তার ডেপুটি নির্বাচিত হন কাসিম সুরি। তিনিও পিটিআইয়ের নেতা।

ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ১৯৯৬ সালে ইমরান খান প্রতিষ্ঠা করেন তেহেরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। প্রতিষ্ঠার ২২ বছরের মাথায় দেশটির ক্ষমতায় এল দলটি। ১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয় করে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ১৯৯২ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটা ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল। ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে বিশ্বকাপ হাতে নিয়েই অবসরের ঘোষণা দেন ইমরান। তখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর।