কোরবানির ঈদ ঘিরে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে: র‌্যাব মহাপরিচালক

: ঈদ ও কোরবানির পশুর হাটকে ঘিরে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।  প্রতিটি গরুর হাটে ক্যাম্প বসানো হয়েছে। গরুর হাটে আসা ক্রেতা ও বেপারিদের নিরাপত্তায় র‍্যাবের সদস্যরা কাজ করবেন।

শনিবার সকালে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। এসময় বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে আইন শৃংখলাবাহিনী বেশ তৎপর। অনুমোদিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে যাতে পশুর হাট বসতে না পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন তারা।

এ ছাড়া হাটে মলম পার্টি, ছিনতাই পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তারে মাঠে আছেন র‍্যাবের সদস্যরা। গরুর হাটগুলো যাতে মহাসড়ক বা রাস্তায় না বসে তা নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানান র‍্যাবের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ জানান, সাইবার ওয়ার্ল্ডে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড মনিটরিংয়ের (নজরদারি) জন্য প্রত্যেক ব্যাটালিয়নে সাইবার পেট্রোলিং ইউনিট খুলেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়টন (র‍্যাব)। জঙ্গি, মাদকবিরোধী ইউনিটের পাশাপাশি নতুন করে এই ইউনিট খোলা হয়েছে। র‍্যাব

র‍্যাবপ্রধান জানান, ইন্টারনেটে থ্রি জি, ফোর জি চালু করা হয়েছে এর সেবা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য নয়। যে কারণে এর অপব্যবহার রোধে র‍্যাব সার্বক্ষণিক মনিটনিং করছে।

এসময় সামাজিকমাধ্যমে কেউ যাতে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার না করতে পারে সে দিকেও কড়া নজরদারি রাখবে র‌্যাবের সাইবার ইউনিট। ঈদ ব্যস্ততায় সড়ক দুর্ঘটনারোধে র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটেলিয়ান সতর্ক থাকবেন বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ঈদ পরবর্তী তিনদিন সড়কে চেকপোস্ট থাকবে এবং প্রতিটি ব্যাটালিয়নের ফেসবুক পেইজ থেকে চার ঘণ্টা পরপর ট্রাফিক আপডেট দিবে। একই সময় মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান বেনজীর আহমেদ।

মহাসড়কগুলোকে ঈদ পরবর্তী ২৩, ২৪ ও ২৫ আগস্টে হাইস্পিড (উচ্চ গতি) প্রতিরোধে হাইওয়ে ও স্থানীয় পুলিশ মিলে বিশেষ দল কাজ করবে বলে বেনজীর আহমেদ জানান। তিনি চালকদের উদ্দেশে বলেন, ‘কেউ হাইস্পিডে গাড়ি চালাবেন না। আর আপনারা গাড়ি হেলপারদের হাতে তুলে দেবেন না। পাশাপাশি যারা ঘরে ফিরবেন তারা কেউ খোলা ট্রাকে উঠবেন না, যাত্রীকে কেউ ট্রাকে তুলবেন না।’

ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে ২৪৫টি টহল দল কাজ করবে। এ ছাড়া ৪৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে বলে জানান বেনজির।

ঈদের জামায়াত নিয়ে ডিজি বলেন, দেশের বড় ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া, দিনাজপুরের গোর ই শহীদ ময়দান ছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াতে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকবে।

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি বোমা মিজানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে র‍্যাবপ্রধান বলেন, মিজান ব্যাঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে সেখান থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। তারপর আলোচনার মাধ্যমে দেশে আনা হবে। তবে মিজান যেহেতু শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং তার নামে মামলা রয়েছে সে কারণে ফিরিয়ে আনা একটু জটিল। তবে দুই দেশের আলোচনা সমঝোতার পর ফিরিয়ে আনা হবে।

দেশে ঈদুল আজহায় কোনো জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেনজীর বলেন, দেশে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের গতিবিধি র‍্যাবের নজরে আছে। প্রতি সপ্তাহে জঙ্গি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদকের পাশাপাশি এ অভিযানও অব্যাহত আছে।

মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা ও মাদক অভিযানের ব্যাপারে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হালনাগাদ করতে হয়। তালিকার বাইরেও লোকজন পাওয়া যাচ্ছে। এমন তো নয় তালিকার বাইরে লোকজন নেই। এ তালিকায় নতুন কোনো মাদক ব্যবসায়ীর নাম যুক্ত হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলার ব্যাপারে র‍্যাব ডিজি বলেন, বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন। এ কারণে সেটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।