ব্লু হোয়েলের মতোই ভয়ংকর ‘মমো’, সাবধান

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ‘মমো’ নামে একটি অনলাইন গেম। এ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে দক্ষিণ আমেরিকা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন,  ‘মমো’ ব্লু হোয়েলের মতোই একটি গেম। যা মানুষকে মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। ‘

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বলছে, এর মধ্যেই গেমটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৫ জুলাই আর্জেন্টিনায় একটি মেয়েশিশুর আত্মহত্যার জন্য এই গেমটিকে দায়ী করা হচ্ছে।

মমো দেখতেই ভীতিকর। গায়ের চামড়া ফ্যাকাসে। চোখে অশুভ হাসি এবং বাইরের দিকে প্রসারিত লাল লাল চোখ। হঠাৎ করেই আপনার কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে উঠতে পারে এবং গেমে অংশ নিতে প্রলুব্ধ করতে পারে। তাতে পা দিলেই মারাত্মক পরিণতির দিকে চলে যাবেন আপনি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ আমেরিকার কর্তৃপক্ষ গেমটি অন্য কাওকে না পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে। তারা বলছেন- ‘মমো’ ব্লু হোয়েলের মতো খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

মেক্সিকোর একটি পুলিশ ইউনিট যারা অনলাইন অপরাধ নিয়ে কাজ করে, তারা বলছেন- হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়াও এটি শুরু হয়েছে ফেসবুকে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছে যে, ‘মমো’তে বার্তা পাঠানোর পর সে সহিংস ছবি পাঠাবে। অনেকে হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছেন। কখনও কখনও ব্যক্তিগত তথ্যও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে টুইটারে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো, স্পেন। লোকজনকে এ খেলায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করছে তারা। হ্যাশট্যাগ ইগনোর ননসেন্স দিয়ে চলছে প্রচার, যাতে বলা হচ্ছে- ডোন্ট অ্যাড মমো টু ইওর কন্টাক্টস।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, মমো কি ও কে?

ইউটিউবার রেইনবট যার পাঁচ লাখেরও বেশি ফলোয়ার আছে তিনি এ বিষয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে গত ১১ জুলাই। ভিডিওটি দেখেছেন পনেরো লাখেরও বেশি মানুষ।

রেইনবট নিজেই জানেন না কে এই ‘মমো’র স্রষ্ঠা। অর্থাৎ মমো কে তৈরি করেছেন।

ধারনা করা হচ্ছে, গেমটি জাপানের কোডসংবলিত তিনটি ফোন নাম্বারের, কলম্বিয়ার কোডসংবলিত দুটি আর মেক্সিকোর কোডসংবলিত আরেকটি নাম্বারের সঙ্গে সংযুক্ত। আর ছবিটি নেয়া হয়েছে টোকিওর একটি প্রদর্শনী থেকে। মমোর ভীত চাহনির মুখ একটি পাখি মানবীর মূর্তিকে তুলে ধরে। ২০১৬ সালে টোকিওতে ভ্যানিলা গ্যালারিতে একটি প্রদর্শনীর অংশ ছিল এটি। দুই বছর আগে আরেকটি প্রদর্শনীতে মমো ছিল বিশেষ আকর্ষণ। বহু মানুষ মমোর সঙ্গে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছে এবং এমন বহু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত হয়েছিল।

সেই ধারনা থেকেই মেক্সিকোর পুলিশ বলছে, কেউ ইনস্টাগ্রাম থেকে ওই অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে সেটিকেই কেটেকুটে এমন বানিয়েছে।