দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন প্রেমিকের, প্রেমিকা আটক

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ফয়’স লেকের লেকভিউ আবাসিক হোটেল থেকে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম মাঈনুদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভ (২৯)।

নৃশংস হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ নিহত শাহরিয়ার শুভর কথিত প্রেমিকা রোকসানা আক্তার ওরফে পপিকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার তিনি চীন থেকে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খুলশী থানা পুলিশ যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। নৃশংস হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ রোকসানা আক্তারকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহত শাহরিয়ার শুভ ছাগলনাইয়া উপজেলার ৯ নম্বর শুভপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ড বালিরচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আটক রোকসানা আক্তার ওরফে পপির বাড়ি জেলার মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট মেহেদী নগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবু আহম্মদ।

এ ব্যাপারে ভোর ৪টার দিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান।

খুলশী থানায় উপস্থিত নিহত শাহরিয়ার শুভর বড় ভাই মো. জাফর বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি মেয়ের সঙ্গে আমার ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি বৃহস্পতিবার বিকেলে চীন থেকে দেশে এসেছে এবং আমার ভাই তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে রিসিভ করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। আমাদের ধারণা, মেয়েটি পরিকল্পিতভাবে তার সহযোগীদের নিয়ে আমার ভাইকে খুন করেছে।’

এদিকে, নিহত শাহরিয়ার শুভর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, শুভ ও পপির মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর তিন-চার বছর আগে তারা গোপনে বিয়ে করেন। পরে পপি চীন চলে যান। চীনে থাকাকালে এর মধ্যে পপি মিরসরাই এলাকায় অপর এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এ নিয়ে পপির সঙ্গে শাহরিয়ার শুভর বিরোধ শুরু হয়। দুই-তিন দিন আগে শুভ পপির ওই কথিত প্রেমিককে খুঁজতে যান একটি কোচিং সেন্টারে। মূলত শাহরিয়ারের চাপে পপি বৃহস্পতিবার দেশে আসতে বাধ্য হন বলে সূত্র জানায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পপি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শাহরিয়ার তার এক বন্ধুকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকায় যান।

তখন পপি প্রাইভেটকারে না এসে এবং শুভর বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শুভকে নিয়ে আলাদাভাবে বাসে করে চট্টগ্রাম যান। সরাসরি তারা ফয়’স লেকের লেকসিটির লেকভিউ হোটেলে ওঠেন।