ন্যাটোর সদস্য হয়েও রাশিয়া-চীনের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে তুরস্ক

: ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের জবাবে মার্কিন পণ্যের উপর শাস্তিমূলক শুল্ক চাপালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এদিকে আমেরিকার দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক দুরাবস্থার জন্য তুরস্ক একাই দায়ী।

ওয়াশিংটন থেকে প্রবল চাপের মুখে পড়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবার পাল্টা পদক্ষেপ নিলেন। তিনি আমেরিকায় তৈরি ইলেকট্রনিক পণ্য বর্জন করার ডাক দেবার পাশাপাশি সে দেশ থেকে গাড়ি, তামাক, মদসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কের হার দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর ডয়চে ভেলে।

আমেরিকায় তৈরি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়র ক্ষেত্রে ১৪০ গুণ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, গাড়ির ক্ষেত্রে তা ১২০ শতাংশ। প্লাস্টিক ও কয়লার ক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক শুল্ক চাপিয়েছেন এরদোগান।

প্রসঙ্গত, এর আগে মার্কিন প্রশাসন তুরস্ক থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন সংকট কাটাতে এখনো নমনীয় হতে প্রস্তুত নন। জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বরং তিনি সংঘাতের পথেই থাকছেন।

বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। ন্যাটো সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নতুন জোট গড়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জের ধরে তুর্কি লিরার বিনিময় মূল্য চলতি বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। মঙ্গলবার লিরা আবার কিছুটা মাথা তুলে দাঁড়ালেও সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ সত্ত্বেও বাজারে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

অনেক বিশেষজ্ঞ সংকট কাটাতে কড়া আর্থিক নীতি ও কড়া হাতে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন। এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তুরস্কের অর্থনৈতিক দুরবস্থা মোটেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে শুরু হয়নি।

অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন করলেও তারা বলবেন, যে সাম্প্রতিক মার্কিন নীতি ও সেগুলি কার্যকর করার সঙ্গে তুরস্কের ঘটনাবলির সম্পর্ক নেই। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তুরস্কে আটক মার্কিন যাজক ব্রানসনসহ অন্যান্য মার্কিন নাগরিক ও দূতাবাস কর্মী এখনো মুক্তি না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন।

ব্রানসন মুক্তি না পেলে আরও কড়া অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সোমবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ওয়াশিংটনে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মার্কিন যাজক ব্রানসনের বিষয়ে আলোচনা করেন। তুরস্কের সরকার এখনো পর্যন্ত সে দেশের বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করছে।