বাঙালির শোকের দিন আজ

 আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী। এদিন বাঙালির শোকের দিন। আজ সারাদেশে দিনটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নৃংশসভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনেই এই হত্যাকান্ডের শিকার হন। কিছু বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রান্ত এবং সেনাবাহিনীর একদল উচ্ছৃঙ্খল উচ্চাভিলাষী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। তবে প্রবাসে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। আগস্টের এ হত্যাকাণ্ডে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনসহ বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ এবং কয়েকজন নিরাপত্তা কমকর্তা ও কর্মচারী। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এই শহীদদেরও। দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসাবে পালন করা হয়।
আজকের দিনটি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত ও অভিশপ্ত। এই দিনটিতে বাঙালি জাতির ললাটে যে কলঙ্কতিলক পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দীর্ঘ ৩৪ বছরেরও বেশি সময় পর সেই কলঙ্ক থেকে জাতির দায়মুক্তি ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় কার্যকর করা হয়। ওইদিন মধ্যরাতের পর ৫ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাঙালির বিজয়ের অভিযাত্রাও আরেক ধাপ এগিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আজকের দিনটি বাঙালির জীবনে যেমন শোকের, তেমনি গৌরব ও আনন্দেরও।
বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। ঐক্য, প্রেরণা ও স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। জাতির স্বপ্নের রূপকার। তাঁর ইস্পাত কঠিন নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে দিয়েছে অধিকার আদায়ের অমর প্রেরণা। পাকিস্তানি শাসকদের ক্রমাগত শোষণ, দমনপীড়ন, ঔপনিবেশিক লাঞ্ছনা-বঞ্চনা আর দীর্ঘদিনের নির্যাতন-নিপীড়ন-বৈষম্যের অপমান থেকে বাঙালিকে চিরকালের মতো মুক্ত হওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’-এই অমর বাণীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল নিপীড়িত কোটি বাঙালির প্রাণে প্রাণে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠেই জাতি শুনেছিল মহান স্বাধীনতার অমর ঘোষণা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস তাকে বন্দি থাকতে হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে। তবে মৃত্যুর খড়গ মাথায় ঝুললেও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি বাঙালির মহান অকুতোভয় এই নেতা। যার কারণে পাকিস্তানি স্বৈরশাসককেও নতি স্বীকার করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালির প্রাণের এই নেতাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় তারা। বীরের বেশেই ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি দেশের মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করেন বঙ্গবন্ধু। দেশগড়ার এই সংগ্রামে চলার পথে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তাঁর দেশের মানুষ কখনও তার ত্যাগ ও অবদানকে ভুলে যাবে না। অকৃতজ্ঞ হবে না। নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু, তাই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের জনতার বাড়িটিতেই বাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পেতেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী কিছু সদস্যকে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যবহার করেছে ওই চক্রান্তের বাস্তব রূপ দিতে। বিপথগামী এসব সেনা সদস্য কলঙ্কিত ওই দিনে রাতের আঁধারে স্বাধীনতার সূতিকাগার বলে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটিতে সশস্ত্রবস্থায় ঢুকে পড়ে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে।
এই হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ দিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক সরকার। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা হয়। জাতির কাঙ্ক্ষিত সেই বিচার শুরু হলে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম রসুল নিম্ন আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় ঘোষণা করে ১৫ জন সাবেক সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল উচ্চ আদালত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন।
কিন্তু আবারও নানা কূটকৌশল আর আইনের বেড়াজাল এবং প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র -চক্রান্তের জাল বিছিয়ে এই হত্যা মামলার বিচারের পথকে রুদ্ধ করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাঁচ বছরেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের আপিল শুনানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা আদালতে ওঠে।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হলে তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সেই চূড়ান্ত বিচারের কাজ শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই নতুন চারজন বিচারপতির নিয়োগদান এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন ও বিচারপতি হাসান আমীনের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ গঠন হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৫ আসামির ‘লিভ টু আপিল’ আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়। একই বছরের ৫ অক্টোবর থেকে ২৯ কার্যদিবসে দীর্ঘ শুনানি ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল জবাব শেষে ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়। খুনিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন এবং রিভিউ পিটিশন খারিজ শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কারাগারে আটক ৫ খুনি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) মুহিউদ্দিন আহমদ, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় আরও ছয় খুনি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খোন্দকার আবদুর রশীদ, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ, লে. কর্নেল (অব.) নূর চৌধুরী, মেজর (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) শরফুদ্দিন আহমেদ ডালিম এবং রিসালদার (অব.) মোসলেম উদ্দিনের ফাঁসির রায় এখনও কার্যকর করা যায়নি।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ২১ বছর এই হত্যার বিচার যেমন হয়নি, তেমনি তার শাহাদতবার্ষিকীও পালিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় অবহেলায়। তাই দেরিতে হলেও ইতিহাসের পালাবদলে আজ বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে নতুন মাত্রায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। অবশ্য ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সাল থেকেই দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ফিরে পায়।
এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রেক্ষাপটে টানা ৬ বছর দিবসটি পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে। সে সময় দিনটি সরকারি ছুটির দিনও ছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০২ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে রুদ্ধ করে দেয়। ওই বছরের ৮ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ওইদিনের সরকারি ছুটি বাতিলের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা। পরে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ওয়ান ইলেভেনের পটপরিবর্তনের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ওই বছরের ১৫ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেন। তবে জাতীয় শোক দিবস বাতিলে জোট সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনও উদ্যোগ নেননি তারা। পরে হাইকোর্টের রায়ের বদৌলতে পরের বছরই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি পুনর্বহাল করা হয়।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে ১৫ আগস্ট শাহাদাৎবরণকারী জাতির জনক ও তার পরিবারের সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সারাদেশে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালনে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
আজ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী অনার গার্ড প্রদান করবে। এ সময় বিশেষ মোনাজাত ও কোরান তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য শহীদের কবরে এবং সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও সশস্ত্র বাহিনী অনার গার্ড প্রদানসহ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশ এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দিবসটি পালনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের দুইদিনের কর্মসূচিতে রয়েছে, ১৫ আগস্ট সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন।
সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং ঢাকা নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।
সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ ও ফারুক খানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
টুঙ্গীপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে আয়োজিত সব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় ওয়াইএমসিএ চ্যাপেল, ১৯ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০-এ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে। দুপুর অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বাদ আছর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে রয়েছে বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি। আলোচনায় অংশ নেবেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীরা।