ঢাকার মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট

: ঢাকার মানহানির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এর আগে সোমবার মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শহীদদের এই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি ওই বক্তব্য দেন। ‘খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য পরদিন বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। যেহেতু ওই বক্তব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করে, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যা দণ্ডবিধি ৫০০ ধারার অপরাধ।’

এ মামলায় গত ৭ আগস্ট খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ করেছিলেন বিচারিক আদালত। আদেশে আদালত বলেছেন, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেন্ডিং আছে। তিনি এখনো এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়নি। এ অবস্থায় উল্লিখিত আসামির পক্ষ জামিন শুনানির আবেদনটি রক্ষণীয় নয় বিধায় নাকচ করা হলো। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

এর আগে সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

সোমবার এ মামলায় আপিলের শুনানিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আবদুর রেজাক খান, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ।

শুনানিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি পড়ে শোনান। এর আগে গত ১ আগস্ট আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত ৮ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেন।

গত ১২ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও একপর্যায়ে বহাল থাকে। কিন্তু অন্যান্য মামলায় জামিন না পাওয়ায় এখনো কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই ওই দিন বিকেলে তাকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখনো সেখানেই আছেন।