ছয় কোম্পানির অধীনে ২২টি রুটে যান চলাচলের প্রস্তাব

রাজধানীর বাস সার্ভিসকে শৃঙ্খলায় আনতে ছয়টি কোম্পানিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে রুট রেশোনালাইজেশন প্রস্তাব করেছিলেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ও আশপাশের এসটিপির আওতাধীন এলাকাগুলোতে ছয় কোম্পানির অধীনে ২২টি রুটে যান চলাচলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ছয়টি সিটি সার্ভিসের জন্য টার্মিনাল এবং ঢাকার বেল্ট এরিয়াতে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণেরও প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গণপরিবহণে ফিরবে শৃঙ্খলা, যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং লাভবান হবেন মালিকরা বলছেন, বিশেষজ্ঞরা।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়াত আনিসুল হকের রুট রেশোনালাইজেশন প্রস্তাবের উদ্যোগটিকে আমলে নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে তাগাদা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবটিই এখন যাচাই বাছাই করে দেখছে।

গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেছেন, গুলশানে গণপরিবহনটিকে বিশৃঙ্খল থেকে সুশৃঙ্খভাবে নিয়ে এসেছিলেন। ১২টি কোম্পানির বাস একটি কোম্পানির আওতায় এনে ‘ঢাকা চাকা’র পরিচয় করিয়ে দিয়ে উন্নয়ন দৃশ্যমান করে দেখিয়েছিলেন মাত্র দুই মাসে এবং এলাকার যানবাহনে শৃঙ্খলা ফিরেছেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক।

প্রস্তাবে কাঁচপুর, ঝিলমিল, টঙ্গি, গাবতলী অথবা হেমায়েতপুর এই চার জায়গায় ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যাত্রীরা সেখান থেকে সিটি সার্ভিসে রাজধানীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে। সিটি সার্ভিসের টার্মিনাল থাকবে মিরপুর, গাবতলী, বসিলা, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়াতে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মাওয়া, অর্থাৎ এসটিপি এরিয়াকে ২২টি রুটে বিন্যাস করা হয়েছে। ফলে যেসকল কোম্পানি নির্দিষ্ট রুটে তাদের বাস পরিচালনা করবে তারা নিজেদের মধ্যে বর্তমানের মত প্রতিযোগিতা করতে হবে না। এমনকি একই রুটে একই কোম্পানির বাস চালকদের লিজিং পদ্ধতিতে পরিচালনার প্রয়োজন হবে না। ফলে দুর্ঘটনা ও যানজটের মাত্রা কমবে।

গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দীন বলেছেন, যে নতুন ৪ হাজার নতুন বাস আসবে, এই বাসগুলো কোন রাস্তা দিয়ে চলবে। নতুন যেসব রুট হবে, সেই রুটে কিভাবে বাস চলবে, কোথায় থামবে এ সব কিছুই আমরা বলে দিয়েছি।

এদিকে, পরিবর্তন আসছে গ্রাউন্ড লেভেলে ট্রাফিক সিস্টেমেও। নতুন কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালকবৃন্দ ও প্রধান নির্বাহী হবেন বাস মালিকরা। বাকি সব পদে পরিবহণ খাতের পূর্বের অভিজ্ঞতা আছে এমন জনবল থাকবে। পরিবহণ খাতের প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে ২টি ট্রেনিং একাডেমিরও প্রস্তাব রয়েছে। সূত্র : ডিবিসি নিউজ