নড়াইলের মানহানি মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে নড়াইলে মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এই বেঞ্চে সোমবারের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) আবেদনটি শুনানির ছিল বলে জানান ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান।

এহসানুর রহমান জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে নড়াইলে করা মানহানি মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আবেদনটি করেন।

এর আগে গত ৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তার ওই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়।

মামলার বাদী নড়াইলের কালিয়ার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে খবরটি পড়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে মামলা করেন।

২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।