রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ৯ ইস্যুতে সম্মত হলো বাংলাদেশ-মিয়ানমার

ফুলকি ডেস্ক : রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় হট লাইন চালুসহ ৯ ইসুতে সম্মত হলো হয়েছে ঢাকা ও মিয়ানমার। গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের নেইপিদোয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দু দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিয়ানমারের কেন্দ্রী মন্ত্রী স্টেট কাউন্সিলের ইউনিয়ন মন্ত্রী কিয়াউ টিন্ট সোয়ে’র সভাপতিত্যে অংশ নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুই পক্ষই কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ভেরিফিকেশন ফরম বিতরণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বৈঠকে দুই দেশ হট লাইন চালুসহ মোট ৯টি পয়েন্টে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেগুলো হলো-

১. দুই পক্ষই রোহিঙ্গাদের অতিসত্ত্বর নিজ থেকে, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে দুই দেশ হটলাইন চালু করবে।

২. রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে স্বেচ্ছায় ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করবে, যেখানে স্বাক্ষর, আঙ্গুলের ছাপ এবং ফটো আইডি সংযুক্ত করবে।

৩. মিয়ানমার দু’টি রিসিপশন সেন্টার ও একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করছে। বাংলাদেশ ৫টি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করবে তার মধ্যে একটি প্রস্তুত হয়েছে।

৪. দুই দেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে।

৫. দুই দেশের জিরো পয়েন্টে যারা অবস্থান করছে তাদের বিষয়ে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে।

৬. রোহিঙ্গাদের যেকোনো ধরনের মানবিক সহায়তা মিয়ানমারে দিতে হলে তাদের এইড এজেন্সি তা দেবে।

৭. বাংলাদেশ এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের যে আইডি কার্ড দিয়েছে তা পরিমার্জন করার ব্যবস্থা থাকবে।

৮. দুই দেশ তাদের সীমান্তে বিপি-৩৪ এবং বিপি-৩৫ নং পিলারে যৌথ পরিদর্শন করবে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গত বুধবার চারদিনের সফরে মিয়ানমার যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। সেখানে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।