কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়, আবার কেউ আইনের নিচেও নয়: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার :  প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য শহিদুল আলমের উপর অকথ্য পুলিশি নির্যাতনকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় প্রখ্যাত আলোকচিত্রি ড. শহিদুল আলমের গ্রেপ্তার নিয়ে বলেছেন কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

তিনি বলেন, আমি উপদেষ্টা সাহেবকে মনে করিয়ে দিতে চাই কেউ যেমন আইনের উর্ধ্বে নয়, তেমনি কেউ আবার আইনের নীচেও নয়। ঘড় নড়ফু রং ঃযব ধনড়াব ঃযব ষধি ধহফ হড় নড়ফু রং নবষড়ি রঃ আবার কালো আইন বলে একটি কথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে আর কালো আইন বা ইধফ ষধংি ধৎব ঃযব ড়িৎংঃ ংড়ৎঃং ড়ভ ঃুৎধহহু.

রিজভী বলেন, উৎপীড়ন করার জন্যই যে ৫৭ ধারা তথ্য প্রযুক্তি আইনে সংযোজন করা হয়েছে সেটি এখন প্রতি মুহুর্তে ফুটে উঠেছে। কোন বিতর্ক ছাড়াই একদলীয় পার্লামেন্টে তথ্য প্রযুক্তি আইন পাস করে সেই আইনের ৫৭ ধারা প্রযোগ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে টুটি চেপে ধরা হয়েছে। লেখক, বুদ্ধিজীবী, কলামিষ্ট, রাইটসগ্রুপ, মুক্ত চিন্তার মানুষদের মাথার উপরে ৫৭ ধারার তরবারী ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর এই কালো আইনের ৫৭ ধারা নির্মম প্রয়োগে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার ড. শহিদুল আলমকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দেশবাসীকে জানাবেন কী কতটুকু আইনের ঊর্ধ্বে উঠলে একজন খ্যাতিমান মানুষ পুলিশী শারিরীক নির্যাতন থেকে রেহাই পান বা পান না ? সভ্যদেশে স্বনামধণ্য মানুষরা দুরে থাক একজন সাধারণ অপরাধীকেও কি শারিরীক নির্যাতনে দৃষ্টান্ত আছে? এর দৃষ্টান্ত থাকলে উৎপীড়নকারী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কি দশা হয় তাওতো জয় সাহেবের অজানা থাকার কথা না। কারণ তিনি তো একটি শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশে থাকেন।

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, পরিবহন সেক্টরের অরাজকতার দায়ী নৌমন্ত্রীসহ এ সেক্টরের গডফাদাররা মাফ পেয়ে যান আর শিক্ষার্থীরা ন্যায়ের আন্দোলনের জন্য সরকারি জুলুমের শিকার হন। শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন চলাকালে পথচারিদের বলেছে ওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার করতে, গাড়ির চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখতে।

তিনি বলেন, লোক দেখানো খসড়া আইন যে একটা শুন্যকুম্ভ সেটা এখন প্রতিমুহুর্তে তার আলামত দেখা যাচ্ছে। সড়কের দুর্ঘটনাতো কমেনি বরং সড়কে লাশের জমায়েত দীর্ঘ হচ্ছে। সড়কে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। পরিবহনখাতে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে, যার প্রমাণ মন্ত্রীর গাড়িও রেহাই পায়নি। গতকালও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে একটি বেপরোয়া বাস, যার চালক ছিল হেলপার।

রিজভী বলেন, আন্দোলন দমানোর নামে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন বেপরোয়া চালকদের আরও বেশী বেপারোয়া করেছে। সড়কে নৈরাজ্য আর ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কারণ পরিবহন সেক্টরের হঠকারী ও অবিমৃশ্যকারিতার জনক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এখনও নির্লজ্জভাবে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। শর্তছাড়া রাজি হলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন রিজভী। শুক্রবার (১০ আগস্ট) আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- ‘নির্বাচন প্রসঙ্গে পূর্বশর্ত দিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনও আলোচনা নয়, শর্ত ছাড়া যেকোনও বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শূন্য টেবিলে আলোচনা হয় না। আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হয়। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তারা যদি এটা না চায় তাহলে বুঝতে হবে তাদের মন স্বচ্ছ না। তাদের মন সাদা নয়, অফ হেয়াইট (ধূসর)।’

রিজভী বলেন, ‘কোনও এজেন্ডা ছাড়া আলোচনা নয়। একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে আলোচনা হওয়া দরকার সে আলোচনার জন্য তো আমাদের দল সব সময় প্রস্তুত। আর এ ধরনের সংলাপের ডাক তো বিএনপি সব সময়ই দিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখবেন আর নির্বাচনের কথা বলবেন সেটা কিভাবে হয়? নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ এই কমিশন নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি সব সময় অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। শুধু অংশগ্রহণমূলক হলেই হবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। এসব বিষয়ে সমাধান না হলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপিও সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।’