ক্লাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা, আন্দোলনের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশবাসী

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হওয়ার জের ধরে নিরাপদ সড়ক সহ ৯ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা গড়ে তুলেছে দুর্বার আন্দোলন। তাদের আন্দোলন থেকে উঠে আসা ৯ দফা দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে, পাশাপাশি তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য নিয়েছে নানা উদ্যোগ।

সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়ে রাজপথ ছেড়ে ক্লাসে ফিরেছে রাজধানীর ৪২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ভিকারুননেসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ঐশী দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন, আমরা রাজপথে থাকবো না ক্লাসে ফিরে যেতে চাই।’

আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দাবি ছিল নিরাপদ সড়ক। সরকার আমাদের সেই দাবির যুক্তি বিবেচনায় তা মেনে নিয়েছে। সেজন্য আমরা সবাই ক্লাসে ফিরে যাবো।’

এদিকে ইতোমধ্যে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশবাসী। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের প্রধান একটি দাবি ছিল নিরাপদ সড়ক আইনকে পরিবর্তন করে সময়োপযোগী করা।

গত সোমবার মন্ত্রীসভায় নতুন সড়ক আইন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। সড়ক দুর্ঘটনায় ইচ্ছাকৃত হত্যা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীদের দাবির যথার্থই প্রতিফলন ঘটেছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আগের সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের পরিবর্তে এবার তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর করা হয়েছে।

এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করেছে সরকার। পাশাপাশি চালকরা যাতে বেপরোয়া ভাবে বাস না চালায় সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে।

রাস্তার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করারও ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নিহত দুই শিক্ষার্থীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে ৫ টি বাস উপহার দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাকি দাবিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

প্রথমবারের মতো কিশোর বিপ্লবের সুফল পেয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ সরকারকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।