ঈদ-উল-আযহার দুর্ঘটনা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে হেলিকপ্টার

 আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। আর এ লক্ষে এবার সড়কে অনাকাঙ্খিত আকস্মিক বড় ধরণের দুর্ঘটনা মোকাবেলা এবং দুর্ঘটনার অব্যহতি পরেই উদ্ধার কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর মহাসড়কের দনিয়া, টঙ্গী-জয়দেবপুর মহাসড়কের ইজতেমা সংলগ্ন সড়কসহ ফরিদপুর জেলার ভাংগা উপজেলার মালিগ্রাম গরুর হাট কোনো অবস্থাতেই সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃতি না করা এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ও পাশে গরুর হাট বসানোর জন্য ইজারা না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে মহানগরী এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ও উভয় পার্শের অস্থায়ী/ভাসমান বাজার অপসারণ এবং মহাসড়কের উপর ধান, পাট, খড়, কাঠ ইত্যাদি শুকানো বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সময় যাতে কোনো চাঁদাবাজি করতে না পারে সেজন্য জননিরাপত্তা বিভাগ, মহাপুলিশ পরিদর্শক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ডিআইজি হাইওয়ে রেঞ্জ, র‌্যাব, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া বা অনভিজ্ঞ চালক দিয়ে মহাসড়কে গাড়ি না চালানোর নির্দেশনার পাশাপাশি দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ী দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু, মেঘনা ও গোমতি সেতুসহ; দুর্ঘটনা প্রবন এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার ও ক্রেন প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। যানজট নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-পাটুরিয়া-আরিচা, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া, ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেরিঘাট এলকা, উন্নয়ন কাজ চলমান স্থান, বাসস্ট্যা-, বাজার এলাকা, ইন্টার সেকশন এলকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
ঈদ যাত্রা নির্বঘœ করতে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে যাওয়া ও আগত মোটরযানের যানজটমুক্ত চলাচলের লক্ষ্যে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও আন্ত:সংস্থার সমন্বয়ে ৩টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হবে। এসব টিম বাস চার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও দাবী প্রতিরোধসহ ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল/যাত্রী পরিবহন, বাসের ছাদে ও ট্রাকে যাত্রী পরিবহন রোধ করাসহ উদ্ভূদ যে কোনো পরিস্থিতি সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

২২টি মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর গাড়ি চলতে না দেয়ার পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে, নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, মাহিন্দা, থ্রি-হুইলার অটোরিক্সা/অটোরেটম্পুসহ অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সিএনজি স্টেশনগুলো ঈদের আগে ও পরে ৪দিন ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যাত্রী সাধারনের যাত্রা নির্বিঘœ করতে ঈদের আগের তিনদিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ রাখা, পচঁনশীল দ্রব্য, রপ্তানীযোগ্য গার্মেন্ট সামগ্রী, ঔষধ, কাঁচা চামড়া, জ্বালানী বহনকরী এবং কোরবানীর পশুবাহী গড়ি অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আরো বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া ঈদের আগে ৭ দিন ও পরে ৭ দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গাড়ী মহাসড়কে থামাতে পারবেনা নির্দেশনা রয়েছে।

বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম খোলা হবে যা ঈদের আগে ৪দিন ও পরের ৪দিন সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ৯১৩০৬৬২ নম্বর টেলিফোন ও ০১৯৬৬৬২২০১৯ নম্বর মোবাইলে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।