রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান

ফুলকি ডেস্ক : টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে বর্ষা মৌসুমে বন্যা এবং ভূমিধ্বসের মত ঝুঁকির মুখে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সোমবার মানবাধিকার সংস্থাটি ৬৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘বাংলাদেশ আমার দেশ নয়: মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অঙ্গিকার’ শীর্ষক প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয় ‘যতদিন তারা বাংলাদেশে আছে তাদের নিরাপদ বাসস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ পাওয়া উচিত’। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, বর্ষা মৌসুমে তারা বন্যা এবং ভূমিধ্বসের মত প্রাকৃতিক দুযোর্গের শিকার হতে পারে। সেই সঙ্গে রোগব্যাধি, নিরাপত্তা শঙ্কা, সামাজিক উত্তেজনা, যৌন এবং পারিবারিক নির্যাতনের মত বিষয়গুলোর ঝুঁকিতে আছে রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালে আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ধর-পাকড়ের শিকার হয়ে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তারা বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবির কুতুপালং-বালুখালীতে বসবাস করছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শরণার্থী শিবিরে প্রতিজনের জন্য বরাদ্দ ১০.৭ বর্গমিটার, যেখানে আন্তর্জাতিক মান ৪৫বর্গমিটার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বন্যা এবং ভূমিধ্বসের ঝুঁকিতে আছে।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ ও প্রত্যাবসন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল কালাম বলেন, ‘শরণার্থী শিবিরগুলো জনাকীর্ণ এ বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ জমি নেই। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে আমরা নিজেরাই ভূমিস্বল্পতায় ভুগছি।’ বাংলাদেশ সরকার ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালির ভাসানচরে নেয়ার কথা বললেও এইচআরডব্লিউ জানায়, এটি নিরাপদ নয়, এখানে সাইক্লোনের ঝুঁকি আছে।

সংস্থার শরণার্থী অধিকার বিষয়ক নির্বাহী বিল ফ্রিলিক বলেন, ‘বাংলাদেশের উচিত প্রতিটি রোহিঙ্গাকে শরণার্থী নথিতে লিপিবদ্ধ করা। এতে তারা স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা পাবে এবং ক্যাম্পের বাহিরেও থাকতে পারবে।’