বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কলকাতায় বিক্ষোভ

ফুলকি ডেস্ক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে কলকাতার শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে স্বারকলিপি দেয়। এর আগে হাই কমিশন অভিমুখে মিছিল নিয়ে গেলে পথে পুলিশি বাধার মুখে পরে সেখানেই অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। এসময় পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। গত ৪ আগস্ট ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছিলো। ইভেন্টের নাম ছিলো- চলুক গুলি টিয়ার গ্যাস, পাশে আছি বাংলাদেশ।

সোমবার বেলা ২টায় কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় বেলা ৩টায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজরী মজুমদার বাংলা’কে বলেন, ‘দুপুর থেকেই ফেস্টুন প্লার্কাড নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে শুরু করে। আমরা ৩টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশনের দিকে যাত্রা শুরু করি। সুরাবর্দি লেন এলাকায় পৌছানো মাত্র পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়।’

আয়োজকদের একজন রুপকথা বসু বাংলা’কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বাংলাদেশের কিশোরদের এই আন্দোলন আমাদের ছুঁয়ে গেছে। বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের মতো মৌলিক দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামা হাজার হাজার কিশোর কিশোরীদের উপর নেমে আসা রাষ্ট্রের বর্বর হামলাকে ধিক্কার জানাই। হ্যাঁ আমরা বিশ্বাস করি ছাত্রদের ঐক্য, আন্দোলনকে রাষ্ট্র ভয় পায়। তাই কাটা তার, প্রশাসন, রাষ্ট্র, সবকিছু ধুলিসাত করে আমাদের পাশে থাকার এই আন্দোলন চলবে।’

বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাক দেয়া ফেসবুক ইভেন্টটি থেকে ‘ফেসবুক লাইভ প্রচার করা হয় কর্মসূচিটি। সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, নানা স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে স্লোগানে প্রতিবাদ জানাচ্ছে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলার ঘটনার। এ সময় তারা এই আন্দোলনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মিছিলটি পুলিশ ব্যারিকেডে বাধার মুখে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পথসভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নীল জামা পড়া পুলিশ আর কলকাতার সাদা জামা পড়া পুলিশ, সবার চরিত্র এক। এরা রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে। গত কয়েক দিনে যে চিত্র আমরা দেখেছি তাতে তাদের চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে। ছাত্ররা রাষ্ট্রের পুলিশের ছোট পর্যায়ে কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রীদের লাইসেন্স চেক করে ধরিয়ে দিয়েছে কি পরিমাণ অনিয়ম হয়। এই আন্দোলনে রাষ্ট্র যে বর্বর হামলা চালিয়েছে তা নিন্দনীয়। এই আন্দোলন যদি আরো কিছু দিন গড়ায় তাহলে তা শুধু ছাত্র আন্দোলনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গণ আন্দোলনে পরিনত হবে। এই গণ আন্দোলন বিদ্রোহে পরিনত হবে আর এই বিদ্রোহ বিপ্লবে রুপ নিবে।

গণ তাহলে একদিন গণরোষের পরিণত হবে। সেই গণরোষ বিদ্রোহে…।

বক্তারা আরো বলেন, এই আন্দোলনে আমাদের শুধু সংহতিই না, সেই সাথে কলকাতায়ও কি ভাবে এ আন্দোলন গড়ে তোলা যায় তা ভাবার আছে। হাই কমিশনে দেয়া স্মারক লিপিতে হামলার নিন্দা ও উদ্যোগ প্রকাশ করা হয়। শুধু সংহতিই নয় অবিলম্বে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে হুশিয়ারী দেয়া হয়।