বন্ধুত্বও হতে পারে একটি ইবাদত

: একজন মুমিনের সব কাজই আমল-ইবাদত। কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করাও একজন মুমিনের নাজাতের উসিলা হতে পারে। রাসুল [সা.] বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে কাউকে ভালোবাসল, একমাত্র তার জন্যই কাউকে ঘৃণা করল, তারই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাউকে দান করল এবং তা থেকে বিরত থাকল; তবে নিঃসন্দেহে সে নিজ ইমানকে পূর্ণতা দান করল।’ (আবু দাউদ শরিফ)

বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে জগদ্বিখ্যাত কবি আল্লামা শেখ সাদি (রহ.) বিখ্যাত উক্তি দিয়েছেন- ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।’ একজন ভালো বন্ধু যেমন মানুষের জীবনের গতি পাল্টে দিতে পারে, তেমনি একজন অসৎ বন্ধুর কারণে জীবন হয়ে যেতে পারে অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম প্রদর্শিত নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন নানাবিধ সমস্যা ও ভোগান্তি থেকে বেঁচে থাকা যাবে, অন্যদিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর পথ অনুসরণ করার সওয়াব পাওয়া যাবে।

সত্যিকারের বন্ধু ও বন্ধুত্ব হজরত আলী (রা.) এক কবিতায় বলেন, ‘সেই তোমার সত্যিকার বন্ধু যে তোমার সঙ্গে থাকে, তোমার কল্যাণের জন্য নিজের ক্ষতি করে। দৈব-দুর্বিপাকে পড়ে তোমার অবস্থা শোচনীয় হলে সে নিজের সুখ বির্সজন দিয়ে তোমাকে সুখ দান করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধু অবশ্যই বানাও। কারণ বন্ধু দুনিয়াতেও উপকারে আসে এবং আখেরাতেও।’ হজরত ইমাম জাফর সাদেক (রহ.) বলেন, পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গ (বন্ধুত্ব) অবলম্বন করো না। মিথ্যাবাদী, নির্বোধ, কৃপণ, কাপুরুষ ও ফাসেক ব্যক্তি।

বন্ধুত্ব তৈরি মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা। তাই বন্ধুত্বের ব্যাপারে ইসলামে যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। বন্ধু তো বানাতে হবে তাই বলে তো যাকে তাকে বন্ধু বানানো যায় না। কারণ, জীবনে বন্ধুর প্রভাব পড়ে। একজন ভালো বন্ধু একজন খারাপ মানুষকে ভালো বানাতে সাহায্য করতে পারে পক্ষান্তরে খারাপ বন্ধু একজন ভালো মানুষকে নিয়ে যেতে পারে অধঃপতনের অতল গহ্বরে। কোরান-হাদিসের দিক-নির্দেশনা কোরআন ও হাদিসে বন্ধু নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা রয়েছে; সূরা তাওবায় আল্লাহ বলেন, ‘আর মহান হজের দিনে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়িত্বমুক্ত এবং তার রাসূলও।’ সুতরাং প্রতিটি মোমিনের ওপর আবশ্যক হলো কাফের-মুশরেকদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা। কেননা তিনি আরও বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা ইয়াহুদি ও নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরে বন্ধু।’

এ প্রসঙ্গে রাসূল [সা.] বলেছেন, ‘সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গের উপমা হলোÑ মিশকের বাহক ও হাঁপড় ব্যবহারকারী কামার। একজন মিশকের বাহক হয়তো তোমাকে সুগন্ধি প্রদান করবে অথবা তার থেকে কিছু মিশক ক্রয় করবে। তবে তুমি অবশ্যই সুগন্ধি লাভ করবে। একজন কামারের হাঁপড়ে হয়তো তোমার পোশাক ছিঁড়ে যাবে কিন্তু তুমি দুর্গন্ধ পাবে।’

আমিরুল মুমেনিন হজরত আলী [আ.] থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি চিন্তাভাবনা করে যথাযথ বিচার-বিশ্লেষণ করে বন্ধু নির্বাচন করবে, তাদের বন্ধুত্ব বজায় থাকবে এবং তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হবে।’ হঠাৎ করে কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্থাৎ কোনোরকম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে অনেক সময় দুঃখজনক পরিণতি ঘটতে পারে। বন্ধু এমন একটি সম্পর্ক যা নির্বাচন করে হয় না। যাকে মন থেকে পছন্দ হয় তারাই হয় একজন আরেকজনের পরম বন্ধু। কিন্তু যদিও বন্ধু নির্বাচন করে হয় না তারপরও এর প্রভাব কিন্তু নির্বাচিত। একজন বন্ধুর প্রভাবে একজন মানুষ নিজেকে তার প্রতিচ্ছবি হিসাবেও দেখতে পছন্দ করে। হাজারো উপমা এমন রয়েছে যে, মানুষ বন্ধুর জন্য নিজের জীবনকেও বাজি রাখতে দ্বিধা করে না।