সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান বি. চৌধুরীর

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী অবিলম্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে নিরাপদ সড়কের জন্য প্রচলিত আইন জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাসভবনে বি চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রউফ মান্নান, ওমর ফারুক, আবদুল হান্নান, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লা কায়সার, মমিনুল ইসলাম, জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতা গোফরানুল হক প্রমুখ।

বি চৌধুরী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিকে দেশপ্রেম থেকে উৎসারিত এবং গণমুখী উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন করেছে তাতে এ কথা স্পষ্ট সাব্যস্ত হয়েছে যে, পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন গাড়ির অনেক চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র নেই। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের অদক্ষতা ও দুর্নীতি রয়েছে এবং তাদের আন্তরিকতার অভাবও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আশা করব, সরকার এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং অবিলম্বে অদক্ষতা ও দুর্নীতি দূর করার ব্যবস্থা করবে।’

একটি জাতীয় দৈনিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বি চৌধুরী বলেন, লাইসেন্স ছাড়া গাড়িচালকের সংখ্যা ৯ লাখ এবং ফিটনেস ছাড়া গাড়ির সংখ্যা ৫ লাখ। শহরের বাইরে ও ভেতরে বাস ও ট্রাকের গতিবেগ অনিয়ন্ত্রিত। ট্রাফিক পুলিশসহ সরকারের অন্য দপ্তরের লোকজন দুর্নীতি করে অদক্ষ লোকদের লাইসেন্স দিচ্ছে।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, অন্যদিকে ইউরোপ-আমেরিকায় বাস-ট্রাক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম। একইভাবে আমাদের দেশে বিআরটিসি বাসে দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। এর কারণ বিআরটিসি বাসের চালকেরা দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত। বিআরটিসির প্রতিটি গাড়ির ফিটনেস প্রমাণিত। এ ছাড়া তাদের মধ্যে দৌড়ের প্রতিযোগিতা নেই।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী বলেন, এই সমস্যার সমাধান করতে হলে সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনগুলোর সংস্কার করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির মামলায় এদের আলাদা একটা শ্রেণি হিসেবে গণ্য করতে হবে। এদের হাতে দুর্ঘটনার বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, যার লাইসেন্স নেই, তিনি চালক হতে পারেন না। অন্যদিকে অভিজ্ঞ লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক ও ‘ফিট’ গাড়ির ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে।

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বলেন, সরকার নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এবং দলীয় নির্যাতনকারীদের নামিয়ে মস্ত বড় ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে। অবিলম্বে এটা বন্ধ করতে হবে।

প্রবীণ এই পার্লামেন্টারিয়ান বলেন, অবিলম্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হবে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইন জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করতে হবে। তাঁর পরামর্শ, রাস্তায় দ্রুতগতির বাসের প্রতিযোগিতা দ-নীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। শহরের মধ্যে বাস-ট্রাকের গতিসীমা ৫০ কিলোমিটারে রাখতে হবে। বাসস্ট্যান্ডের ২০০ গজের মধ্যে গতিসীমা ১৫ কিলোমিটারের বেশি দ-নীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বি চৌধুরী বলেন, খুবই অল্প সময়ের ব্যাপার। এ ব্যাপারে যত দেরি হবে, দেশ ও জাতির জন্য ততই দুঃসময় ডেকে আনবে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বি চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের বছর সরকারের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও অদক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। দেশবাসী ও সরকারকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না নৌপরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘এই লোকটার কারণেই সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে সব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে রক্ষা করার জন্য সরকার নানা বাহানা করছে।’ তিনি ছাত্রদের ৯ দফা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

আবদুল মালেক রতন নৌপরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে ছাত্রদের ন্যায়সংগত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।