শেখ হাসিনার নির্দেশ ‘ধৈর্য ধরতে হবে, অ্যালার্ট থাকতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার : বৈঠকের আগে তিনি প্রধাননমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে সাক্ষাত করেন এবং নির্দেশনা শুনে আসেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুনরায় দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে এসে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগরীর দলীয় সংসদ সদস্য ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, সরকারবিরোধী গোষ্ঠী তথা বিএনপি জামায়াত ও তাদের দোসররা মরণ কামড় দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা এখন কোমলমতি শিক্ষারর্থীদের উসকানি দিয়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করতে পরিকল্পিতভাবে নীল নকশা করে এগিয়ে যাচ্ছে। রবিবার মির্জা ফখরুলের আমির খসরু মাহমুদের বক্তব্যকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে কিন্তু ওরা নানাভাবে উসকানি দিয়ে তাদের লোকদের দিয়ে এখন আন্দোলন চালিয়ে যেতে যাচ্ছে।

এজন্য সবাইকে পাড়া মহল্লায় সর্বোচ্চ সর্তক নজরদারি রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনভাবেই বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে আন্দোলনের সুযোগ নিতে দেওয়া যাবে না। সরকারবিরোধী যেকোন চক্রান্ত মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সর্তকতায় প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ ইতোমধ্যে শনিবার রাতে মোহাম্মদপুরে এক আইনজীবীর বাসায় একজন বিদেশী রাষ্ট্রদূতসহ সুশীল সমাজের একজনের গোপন বৈঠক হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ওতপেতে আছে, তাদেরকে সুযোগ দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে চক্রান্তকারীরা সফল হবে না।

এ ছাড়াও কোথাও যেন কোনোভাবে প্ররোচিত হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে না যায় সেজন্যও সর্তক থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে যদি কেউ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা করার চেষ্টা করে তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, বৈঠক তেমন কিছু আলোচনা হয়নি না। আমাদেরকে শুধু এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাড়া মহল্লায় সর্বোচ্চ সর্তক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সকলকে মুঠোফোন ছবি তুলতেও নিষেধ করা হয়।

এদিকে একই কার্যালয়ে বিকেলে এক দলীয় সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে কিছুক্ষণ আগে আমি আমাদের নেত্রী পার্টির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তার নির্দেশনা চেয়েছি। আমরা দেশবাসীর কাছে, ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমাদের নেতাকর্মীদের কাছে কি নির্দেশনা থাকবে। তিনি পরিষ্কারভাবে অল্প কথায় বলেছেন, ‘ধৈর্য্য ধরতে হবে, অ্যালার্ট থাকতে হবে।’ এই দুটি শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন।

আমিও আমাদের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাইকে ধৈর্য্য ধরার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে যে কোনো প্রকার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেজন্য সবাইকে সর্তকভাবে অপেক্ষা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। আমরা আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না। আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা কেন অশান্তি চাইবো, আমরা দেশে শান্তি চাই।

যদি কোনো প্রকারর প্রতিকূল পরিস্থিতি আসে সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। এই বিএনপি জামায়াত আজকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো ষড়যন্ত্র কোনো চক্রান্ত সফলে হবে না।

আমরা ধৈর্যের সহনশাীলতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে যাবো। আমাদের নির্দেশনার বাইরে কেউ যেন কোন প্রকার তাদের প্রভোকেশনের (উসকানি) মধ্যে না পড়ে সে ব্যাপারেও সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান কাদের।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, আব্দুল মতিন খসরু, মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, আব্দুস সবুর, ডা. রোকেয়া সুলতানা, বিপ্লব বড়ুয়া, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের

দক্ষিণ ও উত্তরের সাধাররণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাদেক খানসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।