বাংলা থেকেও তাড়ানো হবে অবৈধ বাংলাদেশিদের?

ফুলকি ডেস্ক : শিলচর শহরে ঢুকতে দেওয়া হলো না তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে এফআইআর করল অসম পুলিশ৷ বাংলাতেও নাগরিক পঞ্জি সংশোধনের দাবিতে মিছিল করল বিজেপি৷

বৃহস্পতিবার তুলকালাম কা- শিলচর বিমানবন্দরে৷ অসমের নাগরিক তালিকা থেকে ৪০ লক্ষেরও বেশি, মূলত বাংলাভাষী মানুষকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকা গণ কনভেনশনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রওনা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল৷ সুখেন্দুশেখর রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মমতাবালা ঠাকুর, রতœা দে নাগ, নাদিমুল হক এবং অর্পিতা ঘোষ – এই পাঁচজন সাংসদ, এবং বিধায়ক মহুয়া মৈত্র ছিলেন এই দলে৷

কিন্তু গণ কনভেনশন বানচাল করার উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই তৎপর ছিল অসমের বিজেপি প্রশাসন৷ তৃণমূলের প্রতিনিধিদল শিলচর যাবে, বুধবার রাতে এই খবরের পরপরই শোনা যায়, শিলচরসহ গোটা কাছাড় জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন৷ আর বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা থেকে বিমানে শিলচর পৌঁছনোর পরই বিরাট পুলিশবাহিনী কার্যত ঘিরে নেয় তৃণমূলের সাত সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলকে৷ শুরু হয় ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি৷

কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তোলা সেই ফুটেজ চলে আসে কলকাতায় সংবাদমাধ্যমের কাছে৷ দেখা যায়, তর্কাতর্কির সময় সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়কে ধাক্কা মারছে পুলিশ৷ মহিলা পুলিশের দল তাড়া করছে বিধায়ক মহুয়া মৈত্রকে৷ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সেই মুহূর্তে টেলিফোনে জানান, ‘‘পুলিশ প্রচুর মারধর করছে৷ কোনো মিডিয়াকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না৷ রীতিমত অত্যাচার করা হচ্ছে!’

কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আটক রাখার নির্দেশ ছাড়াই পুলিশ হেনস্থা করেছে তাঁদের, অভিযোগ করেন কাকলি৷ উদ্দেশ্য একটাই, কোনোভাবে কাউকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না৷ প্রতিবাদে ওঁরা বিমানবন্দরে বসেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷ সেই সময় বাইরেও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, যেহেতু তাঁদেরও ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না৷

তৃণমূল প্রতিনিধিদের এর পর জোর করে ঠেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বিমান বন্দরের একটি ঘরে৷ সেখানেই তাঁদের আটকে রাখা হয়৷ পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পরের একটি বিমানে শিলচর পৌঁছালে, তাঁকেও সেই ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়৷ অসম পুলিশের চেষ্টা ছিল সবাইকে ফিরতি বিমানে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া৷ কিন্তু মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ ছিল, কেউ যেন জমি না ছাড়েন৷ ফলে একটি হোটেলে তাঁদের সবাইকে নজরবন্দী রাখা হয়৷

এদিকে এদিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভারতীয় দ-বিধির চারটি ধারায় তিনটি এফআইআর দায়ের করল অসম পুলিশ৷ অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকে ৪০ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়ার প্রেক্ষিতে মমতা মন্তব্য করেছিলেন, বিজেপি কি দেশে গৃহযুদ্ধ চাইছে? যার পর বিজেপির যুব মোর্চার ডিব্রুগড় শাখা মমতার বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগ দায়ের করে৷ তার সূত্রেই এদিনের তিনটি এফআইআর৷ মমতা ব্যানার্জি এদিন ছিলেন দিল্লিতে৷ সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে শিলচরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সুপার এমার্জেন্সি চলছে৷ স্বরূপ ধরা পড়ে গেছে বিজেপির৷

অন্যদিকে অসমের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিক তালিকা সংশোধনের দাবি তুলে বৃহস্পতিবার কলকাতায় মিছিল করল বিজেপি৷ আগামী ১১ আগস্ট একই দাবি জোরদার করতে শহরে সভা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ তার আগে বাজার গরম করতেই ছিল এই মিছিল৷ অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকে ৪০ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা বাদ পড়ার পর বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, এবার পশ্চিমবঙ্গেও এরকম নাগরিকপঞ্জি তৈরি হবে৷ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়ানো হবে অবৈধ বাংলাদেশিদের৷ তার পরই অমিত শাহর কলকাতার সভা নিয়ে জল ঘোলা হতে শুরু করে৷ রটে যায়, শাহকে সভা করতে দেওয়া হবে না কলকাতায়৷ প্রতিক্রিয়ায় অমিত শাহ প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মমতা ব্যানার্জির সরকারের উদ্দেশ্যে, যে ক্ষমতা থাকলে গ্রেপ্তার করে দেখান, কিন্তু ১১ তারিখ কলকাতায় সভা করবই৷ যদিও পরে জানা যায়, অমিত শাহর সভা নিয়ে প্রশাসন কোনো আপত্তি তোলেনি এবং পুলিশের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও পাওয়া গেছে৷