বর্ণবাদকেই ‘বড় সমস্যা’ মনে করেন অধিকাংশ জার্মান

ফুলকি ডেস্ক  : অর্ধেকেরও বেশি জার্মানকে নিয়ে করা মাসিক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য৷ জরিপে অংশগ্রহণকারীরা এছাড়াও বলছেন যে, সামাজিক বিষয়গুলো আশ্রয় ও শরণার্থী সমস্যার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷

 

জার্মান প্রচারমাধ্যম এআরডির হয়ে প্রতিমাসে একটি জরিপ করে দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাটেস্ট-ডিম্যাপ৷ ‘জার্মানি ট্রেন্ড’ নামের এই জরিপের আগস্ট মাসের ফলাফল বলছে, দেশটিতে এখন বড় সমস্যা হলো বর্ণবাদ৷

 

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেয়া ৬৪ ভাগ মানুষ মনে করেন যে, বর্ণবাদ একটি ‘অনেক বড় সমস্যা’ (১৭ ভাগ) অথবা ‘বড় সমস্যা’ (৪৭ ভাগ)৷ তবে ৩৫ ভাগ একে তেমন কোনো সমস্যা বা আদৌ কোনো সমস্যা বলে মনে করেন না৷

 

প্রতিষ্ঠানটি প্রাপ্ত তথ্য রাজনৈতিক পরিম-লে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে যে, অতি ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র সমর্থকদের মধ্যেই একে সমস্যা মনে না করার প্রবণতা বেশি৷ এদের ৩৭ ভাগই কেবল একে বড় সমস্যা বলে মনে করছেন৷

 

অন্যদিকে, বামপন্থি ও মধ্যবামপন্থি দলগুলোর সমর্থকের মধ্যে একে কঠিন সমস্যা মনে করার হার বেশি৷ যেমন গ্রিন পার্টি ও সামাজিক গণতন্ত্রী পার্টি (এসপিডি)-র সমর্থকদের মধ্যে ৭৭ ভাগ ও লেফট পার্টির ৭৩ ভাগ বর্ণবাদকে গভীর সমস্যা বলে মনে করেন৷

 

অন্যদিকে, আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রক্ষণশীল দল সিডিইউ ও তাদের বাভেরিয়ান সহযোগী সিএসইউ-র ৫৯ ভাগেরও একই মত৷ আর মধ্য ডানপন্থি ফ্রি ডেমোক্র্যাটসের সমর্থকদের ৫৭ ভাগ বর্ণবাদকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখেন৷

সম্প্রতি তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান তারকা ফুটবলার মেসুট ও্যজিলকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সমালোচনার পর বর্ণবাদ নিয়ে খুব মাথা ঘামাচ্ছেন জার্মানরা৷ তবে মজার ব্যাপার হলো, বর্ণবাদকে বড় সমস্যা হিসেবে মনে করাদের মধ্যে অভিবাসীদের (৬৮ ভাগ) সংখ্যা স্থানীয়দের (৬৩ ভাগ) চেয়ে খুব বেশি নয়৷

 

আবার, একে সমস্যা ভাবার ক্ষেত্রে সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির লোকেরা (৭১ ভাগ) পশ্চিমের লোকদের (৬২ ভাগ) চেয়ে এগিয়ে৷

 

এছাড়া, অভিবাসীদের মধ্যে (নতুন ও পুরোনো) কারা ভালোভাবে এই সমাজে একীভূত (ইন্টিগ্রেশন) হয়েছেন, তা নিয়েও বিস্তর মতভিন্নতা আছে৷ ম্যার্কেল ও তাঁর সহযোগী দলের লোকজন এক্ষেত্রে নতুনরা এগিয়ে আছেন বলে মত দিয়েছেন, যা অন্যদলগুলোর সমর্থকেরা মানছেন না৷

 

এদিকে, অভিবাসী বা শরণার্থী ইস্যুর চাইতে সামাজিক ইস্যুগুলোকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জার্মানরা৷ ৯৭ ভাগ মনে করছেন যে, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবাকেন্দ্রিক নীতিগুলোর সমাধানই সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ৷ ৯৫ ভাগের চিন্তা পেনশন ও সামাজিক সুবিধাগুলো নিয়ে৷ ৯০ ভাগ সামাজিক অপরাধগুলো কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে চিন্তিত৷

 

এর বাইরে আরো কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে গবেষণা জরিপটি করেছে ইনফ্রাটেস্ট-ডিম্যাপ৷