রেকর্ড! দেশের প্রেক্ষাগৃহে ১২ বিদেশি ছবি

দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে অথবা প্রেক্ষাগৃহ অঙ্গনে দুটি বড় রেকর্ডের ঘটনা ঘটলো আজ (৩ আগস্ট)। একটি হলো, চলতি সপ্তাহে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে একযোগে চলছে ১২টি বিদেশি ছবি! সংখ্যার বিচারে যেমনটা অতীতে ঘটেনি। এর বাইরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সিনেমা মাত্র একটি—‘পোড়ামন- টু’।

অন্য রেকর্ড হলো- প্রদর্শক সমিতির তথ্যমতে দেশে এখন চালু রয়েছে ২৭৪টি প্রেক্ষাগৃহ। এরমধ্যে আজ (৩ আগস্ট) থেকে দেশের ১৭০টিরও বেশি হলে চলছে টলিউডের তিনটি ছবি! যেমনটা ঘটেনি নিকট অতীতে।

কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দুটি। প্রথমটি- ‘পোড়ামন-টু’র বাইরে চলতি সপ্তাহে হলে চালানোর মতো দেশের ছবি নেই। পরেরটি- বিদেশি ছবি আমদানিতে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহ এবং দর্শকদের আগ্রহ।

প্রদর্শক সমিতি থেকে তথ্য মিলেছে, আজ (৩ আগস্ট) থেকে ১৭০টি হলে চলা টলিউডের আমদানি করা তিন ছবির মধ্যে ‘ভাইজান এলো রে’ দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে চলছে ১২৯ হলে, ‘সুলতান’ তৃতীয় সপ্তাহে চলছে ১৭ সিনেমা হলে আর ‘ফিদা’ প্রথম সপ্তাহ হিসেবে আজ (৩ আগস্ট) মুক্তি পেয়েছে ২৩টিতে। অথচ দেশের সাম্প্রতিক অন্যতম মৌলিক ছবি ‘পোড়ামন-টু’ চলতি সপ্তাহে এসে চলছে মাত্র ১২টি প্রেক্ষাগৃহে।

অন্যদিকে দেশের প্রধান সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরার স্টার-এ আজ (৩ আগস্ট) একসঙ্গে মুক্তি পেয়েছে দুটি হলিউডের ছবি- ‘দ্য ডার্কেস্ট মাইন্ডস’ ও ‘ক্রিস্টোফার রবিন’। এই সিনেপ্লেক্সে মোট নয়টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে চলতি সপ্তাহে। এরমধ্যে ৭টি হলিউডের, একটি টলিউডের (ভাইজান এলো রে), অন্যটি ঢালিউডের (পোড়ামন-টু)। এদিকে শহরের আরেক সিনেপ্লেক্স যমুনা ব্লকবাস্টারে চলতি সপ্তাহে স্ক্রিনিং হচ্ছে মোট ৭টি ছবি। এরমধ্যে পাঁচটি হলিউড, একটি ঢালিউড (পোড়ামন-টু) আর অন্যটি টলিউড (ফিদা)।

১২টি হলিউড ছবির মধ্যে তিনটি ছবি দুই সিনেপ্লেক্সেই চলছে। এছাড়া দেশের ১৭৪টি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে বাকি যেগুলো আছে সেখানে চলছে দেশের পুরনো অশ্লীল সিনেমা।

চলতি সপ্তাহে এসে দেশের প্রেক্ষাগৃহে বিদেশি ছবির আধিক্যকে অবশ্য নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চাইছেন না চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির অন্যতম

নেতা মিয়া আলাউদ্দিন।

আমদানি করা ছবির পক্ষে দাঁড়িয়ে তার ভাষ্য এমন, ‘সিনেমা হল বাঁচাতে তো ভালো ছবি দরকার। যে ছবি মানুষকে হলে টানবে। আমাদের ছবি নেই বলেই কলকাতার ছবি মানুষ দেখছে। যদি দেশের সিনেমা দিয়ে হল বাঁচাতে হয় তবে ছবির বাজার ওপেন করে দেয়া উচিত। সারা দুনিয়া থেকে ভালো ভালো ছবি আসা উচিত।’

কলকাতার ‘ভাইজান এলো রে’ এবং দেশের ‘পোড়ামন-টু’ ছবিকে ‘ভালো’ স্বীকৃতি দিয়ে এই নেতা আরও বলেন, ‘এগুলোর মতো কোয়ালিটিফুল ছবি বানাতে হবে আমাদের। অথচ আমরা এখন ছবি নির্মাণ না করলে ব্যাড পলিটিক্স করছি।’

নিকট অতীতের তথ্য বিবেচনা করলে হলকেন্দ্রিক এই নেতার কথার সত্যতাও মেলে খানিক। কারণ, চলতি বছরে এসে দেশে ছবি নির্মাণের সংখ্যা কমে গেছে। গত জানুয়ারি থেকে জুলাই, এই সাত মাসে দেশীয় ছবি মুক্তি পেয়েছে মাত্র ২৫টি। এরমধ্যে বেশিরভাগ ছবিই লোকসানের মুখ দেখেছে, গল্প ও মানহীনতার দায়ে। এরমধ্যে গুটিকয়েক মানসম্পন্ন ছবি নির্মিত হলেও সে অর্থে মেলেনি বাণিজ্যিক সফলতা।

কিন্তু তাই বলে দেশের প্রেক্ষাগৃহ এভাবে ভরে উঠবে বেদেশি ছবিতে? জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দেশের অন্যতম চলচ্চিত্র প্রযোজক আবদুল আজিজ। বললেন, ‘প্রকৃতি কখনোই শূন্যস্থান পছন্দ করে না। তাই এখন দেশের সিনেমা হলে বিদেশের ছবির আধিক্য। যারা ইন্ডাস্ট্রির নেতা তাদের এটা আরও আগেই বোঝা উচিত ছিল। সেটা না বুঝে তারা বরাবরই আটকে রাখার চেষ্টা করেছে আমাদের। আমরা যারা দেশেই আন্তর্জাতিক মানের ছবি বানাতে চাই, এটা তাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।’

তিনি দেশের প্রধান নায়ক শাকিব খানকে টেনে তিনি আরও বললেন, ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া, শাকিব খানসহ অনেককেই তারা (চলচ্চিত্র নেতারা) কাজ করতে দিচ্ছে না। যৌথ প্রযোজনার ছবিও প্রায় বন্ধ। সে জন্যই সাফটায় এখন ছবি আসছে। আমার প্রশ্ন, যৌথ প্রযোজনা বন্ধ করে কার লাভ হলো? ভারতীয় ছবি তো চলছেই। আমরা যে শুধু আমদানি করছি তা তো নয়, দেশে মৌলিক ছবিও নির্মাণ করছি। কিন্তু যারা পদে পদে আমাদের বাধা দিয়ে আসছে, তারা কী করছে? না ভারতীয় ছবি আসা বন্ধ করছে, না নিজেরা কিছু বানাচ্ছে। শুধু কথা বলে তো আজকাল আর হবে না, কাজটাও করতে হবে।’

এদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার পরিবেশনায় টলিউডের ‘সুলতান’ ও ‘ফিদা’র মতো সাফটা চুক্তির আওতায় আগামী সপ্তাহে (১০ আগস্ট) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সোহম-শ্রাবন্তী অভিনীত নতুন ছবি ‘পিয়া রে’। কোরবানির ঈদের পর এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে টলিউডের আরও অনেক নতুন নতুন ছবি। বিনিময়ে দেশ থেকে রফতানি হবে পুরনো কিছু ছবি। যে ছবি পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কয়টি হলে কবে নাগাদ মুক্তি পাবে, তার সঠিক খবরও পাওয়া যাবে না চলচ্চিত্র কর্তাদের কাছ থেকে। এমনটাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্তরের শিল্পী-কুশলীরা।