রাজধানীতে গণপরিবহন চলছে না, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

 শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সপ্তম দিনেও রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যাত্রীবাহী বাস চলছে না। তবে স্বল্প সংখ্যায় সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। এর ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

শনিবার সকাল আটটায় রাজধানীর রোকেয়া সরণি, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, প্রগতি সরণি, এলিফ্যান্ড রোড ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে শত শত মানুষকে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে।

রাতে রাজধানীসহ দূরপাল্লার যান ছাড়লেও বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে আজ সকাল থেকে আবারো সারা দেশে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

সরকারি ছুটির দিন শনিবারে সাধারণত সড়কে বাসের সংখ্যা কম থাকে। কিন্তু আজ আক্ষরিক অর্থে গণপরিবহন দেখা যায়নি। ট্রাফিক পুলিশকে যানবাহনের অভাবে অলসভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিভিন্ন গন্তব্যগামী শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন বা হাঁটছেন। রাইড শেয়ারিং যান, রিকশা বা অটোরিকশা, বিআরটিসির বাসে বা যেভাবেই হোক, গন্তব্যে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তঃজেলা বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৯টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার তাদের ডাকে সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সরকারি সিদ্ধান্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে। তবু গতকাল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে এবং নিরাপদ সড়কের দাবি তোলে।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না শ্রমিকরা এমন অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুয়েকটি বিচ্ছিন্নভাবে গাড়ি চললেও তা থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় শ্রমিকরা। এতে চরম দর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। মিরপুর সাড়ে ১১ তে পরিস্থান পরিবহনের একটি গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন ১০-১২ জনের এক দল শ্রমিক। তারা বলেন, মালিক সমিতি ধর্মঘট ডেকেছেন। কোনো গাড়ি চলতে দেয়া হবে না।

আব্দুল্লাহ নামের এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, শিক্ষার্থীদের গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার মালিক সমিতি ধর্মঘট ডেকেছেন। কাজেই কোনো গাড়ি চলবে না।

মহাখালীতে যাবেন ফিরোজা বেগম নামের এক যাত্রী। তিনি মিরপুর ১০ এর গোলচত্বরে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে সিএনজি খুঁজছেন, তাও পাচ্ছেন না। এ দুর্ভোগে বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।

তবে মিরপুরের ডিসি (ট্রাফিক-পশ্চিম) লিটন কুমার সাহা বলেন, মালিক সমিতি এখনো ধর্মঘট ডাকেনি। তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ডাকতে চাইলে আমরা তাদের না করেছি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে শ্রমিকরা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে পারেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নয়টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত বলে জানান তিনি।

এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত তারা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে। শুক্রবার থেকেই আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।