মুরাদ জং কি সাভারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন!

মুরাদ জং কি সাভারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন!
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা-১৯ আসন, সাভারের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ। দীর্ঘদিন নীরবে-নিভৃত্তে থাকলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় সরব হয়ে উঠেছেন। ঢাকা-১৯ আসনে মুরাদ জং-ই পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-এ আলোচনা এখন সাভারের আনাচে-কানেচে শোনা যাচ্ছে।

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশসহ বিভিন্ন এলাকায় অতি সম্প্রতি আলহাজ্ব তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ জং-এর নামে ‘কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ লেখা পৃথক দু’টি পোস্টার, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলেছে দলের প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। কিন্তু পোস্টার লাগানোর পরেরদিনই রাতের আঁধারে এসব পোস্টার একদল দুর্বৃত্ত ছিঁড়ে ফেলেছে। এ নিয়ে তাঁর সমর্থক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা গেছে।

এছাড়া সাভারের শিমুলতলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পূর্বপাশেই তালুকদার তৌহিদ মুরাদ জং-এর রাজনৈতিক কার্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ধোয়া মোছার কাজ চলছে। তার কর্মী-সমর্থকরাও হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এসব কিছু ঘিরেই সাভারে দলমত নির্বিশেষে প্রশ্ন উঠছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তাহলে মুরাদ জং-ই পাচ্ছেন?


তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর সাভারে তাঁর কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। দল ক্ষমতায় থাকলেও মুরাদ জং অনুগত নেতা, কর্মী-সমর্থকরাও ছিলো চরমভাবে কোনঠাসা। সাভারে কোথাও তাদের কার্যক্রম তেমন চোখে পড়েনি। বলা চলে আওয়মী লীগের রাজনীতি করেও তারা ছিলেন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মতো নিভৃতচারী, ছিলেন ক্ষমতার রাজনীতির কাছে উপেক্ষিত। চলতি বছরের শুরু থেকেই মুরাদ জং সমর্থিত নেতা, কর্মী-সমর্থকরা অনেকটাই উজ্জীবিত উঠেছে।

ঢাকা-১৯ আসন, সাভারে বর্তমান সাংসদ ডা: এনামুর রহমানও দলের মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ডা: এনামুর রহমান এমপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেকে দলের প্রার্থী বিবেচনা করেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাভারের বাসিন্দা ফারুক হাসান তুহিনও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসন, সাভারে দলের মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বরিশাল বিভাগ যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাভারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি খুলনা, গাজীপুর এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঐসব এলাকায় থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেখানে দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ীও হয়েছেন।

আবু আহমেদ নাসীম পাভেল যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনিও সাভারের বাসিন্দা। তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসন, সাভারে দলের মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তিনি রাজশাহী বিভাগ যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাভারে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, র‌্যালী এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপন করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফখরুল আলম সমর ঢাকা ১৯ আসন, সাভার থেকে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এলাকায় কাজ করে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় এবং ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দলের পক্ষ থেকে পোস্টার টানিয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এছাড়া দলের একাধিক শীর্ষনেতা তাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন।

তবে তালুকদার মো: তৌহিদ জং মুরাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করলে তিনি দৈনিক ফুলকিকে জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসন, সাভারে দলের মনোনয়ন চাচ্ছি। আশা রাখি আমার প্রিয় নেত্রী, দলের কান্ডারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী এবং সমর্থকদের চাওয়া-পাওয়া এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখেই দলের মনোনয়ন দিবেন।

সেক্ষেত্রে তিনি ঢাকা-১৯ আসনে আমাকেই বেছে নিবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমার প্রতি সাভারের মানুষের প্রত্যাশা এবং ভালোবাসাকে সামনে রেখেই আমি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ জন্য আমার নির্বাচনী কার্যালয়কে ধুয়ে-মুছে তৈরি করছি। আশা রাখি কুরবানির ঈদের পর থেকে নিয়মিত অফিসে বসবো এবং সবার সঙ্গে সেখান থেকেই দেখা সাক্ষাৎ এবং যোগাযোগ হবে।

তিনি দৈনিক ফুলকিকে আরও বলেছেন, একটি কুচক্রী মহল দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং জনগণের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতায় ভীত হয়ে কাপুরুষের মতো রাতের আঁধারে আমার পোস্টার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে। তবে এসবে আমি মোটেই ভীত নই। কারণ আমি মানুষের মনের মনিকোঠায় আছি। সেখান থেকে কেউ আমাকে ছিঁড়ে ফেলতে পারবে না।

তিনি আরও বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে যদি দলের মনোনয়ন দেয়া না হয় তাহলে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে থাকব। সে ক্ষেত্রেও আমার ভক্ত শুভাকাঙ্খীদের নিয়ে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ করবো। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিবো। এ ক্ষেত্রে পিছ পা হবো না।