বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে সিআইএ’র ফ্যাক্টবুকে যা আছে

ফুলণকি ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) পরিচিত। ৯/১১ হামলার পর বিশ্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্বে রয়েছে এই গোয়েন্দা সংস্থাটি। গোপন ও প্রকাশ্য অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে। সিআইএ’র গোপন নথিতে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে কেমন তথ্য রয়েছে তা জানার সুযোগ নেই। কিন্তু তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফ্যাক্টবুকেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সিআইএ বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক তৈরি করেছে। সেখানে বাংলাদেশেরও বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থান, মানুষ ও সমাজ, সরকার, অর্থনীতি, জ্বালানি, পরিবহন ও টেলি যোগাযোগ, সামরিক ও নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ এবং আন্তঃদেশীয় বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে ফ্যাক্টবুকে অংশটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম অংশে দেশীয় জঙ্গিদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুটি জঙ্গি সংগঠনের নাম ও তাদের উদ্দেশ্যের কথা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের এপ্রিলে এসব তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।

দেশি জঙ্গি সংগঠন

হরকাতুল জিহাদ-ই-ইসলামি/বাংলাদেশ (হুজি-বি)

লক্ষ্য: বাংলাদেশে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি: সদর দফতর বাংলাদেশে অবস্থিত। সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে। বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো নিয়ে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বাংলাদেশে আইএস নেটওয়ার্ক

লক্ষ্য: বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাত করে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আইএসের কঠোর শরিয়াহ বিধি চালু করা। আইএস বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) নামে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি: ঢাকা কেন্দ্রিক।

নোট: আইএসবির টার্গেট বিদেশি, বিদেশি ত্রাণকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অধ্যাপক ও সেক্যুলার ব্লগার হত্যা। আইএসের মূল কেন্দ্র বাংলাদেশ শাখাকে বেঙ্গল হিসেবে উল্লেখ করে।

বিদেশি জঙ্গি সংগঠন

আল-কায়েদা (একিউ)

লক্ষ্য: বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাত, শরিয়া আইনের সালাফি মতবাদের আওতায় ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা।

কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি: আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করে।

আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)

লক্ষ্য: অন্যায় ও অবিচার থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদের রক্ষা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা।

কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি: সারাদেশেই সক্রিয়। তাদের টার্গেট মূলত সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং মার্কিন স্বার্থ।