রাজধানীতে ফের বাসচাপায় প্রাণহানি, চালক আটক

রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেস এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক মোটর সাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। তার নাম সাইফুল ইসলাম রানা (৩০)। তিনি ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল মগবাজারের নার্স ছিলেন।শুক্রবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বাসটিতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ পথচারীরা।

স্থানীয় শিশির খান ও সৈয়দ কবীর উদ্দিন  জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় চালক ইমরান সরদারকে (২৫) ধরে স্থানীয় জনতা পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। চালক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার।

রমনা থানার এসআই মহিবুল্লাহ জানান, পথচারীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে আমি তাদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই মহিবুল্লাহ জানান, সাতক্ষীরাগামী এসপি গোল্ডেন লাইন বাসটি তাকে চাপা দেয়। লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের খালা রোকসানা হক লাশ শনাক্ত করেছেন। তার বাড়ি পিরোজপুরের স্বরুপকাঠী উপজেলার শেরেবাংলা বাজার। তিনি শাহজাহান মিয়ার একমাত্র ছেলে। তারা ঢাকার খিলগাঁওয়ের উত্তর গোড়ানে থাকতেন। তারা দুই বোন ও এক ভাই।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার  বলেন, ‘মগবাজারে দুর্ঘটনার পর বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা এই বাসটিতে আগুন দিয়েছে, সেটি বলা যাচ্ছে না৷ বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর বলা যাবে।’

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বাসে আগুন দেয়নি। তারা দাবি করছে, বহিরাগতরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায়  সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।  গত পাঁচ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। বুধবার (১ আগস্ট) বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে  বৈঠক করে  শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার কথা জানানো হয়। ছুটি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবারও তারা আন্দোলন করে। শুক্রবারও (৩ আগস্ট) তারা আন্দোলন করছে।