বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাব সেপ্টেম্বরে!

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে আলোচনা চলছে বিএনপিতে। আগামী সেপ্টেম্বরে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্দলীয় সহায়ক সরকারের এই প্রস্তাব দিতে পারে দলটি। এক্ষেত্রে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত না হলেও প্রস্তাব দেওয়ার সর্বশেষ তৎপরতা চলছে। এ মাসেই স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনা শুরু হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার  বলেন, ‘সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় দরকার। এরমধ্যে নির্বাচনের আগে অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা আছে। তারা কীভাবে নির্বাচনকালীন সরকার দেখতে চায়, এ নিয়েও আগে কাজ আছে। এরপরই স্থায়ী কমিটিতে পর্যালোচনা হবে।’

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার ও সরকার দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে একমঞ্চে আনতে আগ্রহী বিএনপি। দলীয়ভাবে ‘জাতীয় ঐক্য’ বাস্তবায়ন করেই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিতে চায় দলটি। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল কাজ করছে।

দলের নেতারা জানান, সহায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দেওয়ার আগে পূর্বশর্ত হচ্ছে ‘বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্যের’ বিষয়ে ফয়সাল করা। এক্ষেত্রে অন্য দলগুলোর নির্বাচনকালীন সরকারের অবয়ব কেমন হবে- এ নিয়ে আগাম নিশ্চয়তা পেলেই দলীয় প্রস্তাব সামনে আনবে বিএনপি।

পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন খালেদা জিয়া। যদিও এই ঈদ-সেই ঈদের পর এই প্রস্তাব পিছিয়েছে। তবে আগামী নির্বাচন আসন্ন ভেবে আর দেরি করতে চায় না বিএনপির বর্তমান হাইকমান্ড। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এ কাজটি এগিয়ে নিচ্ছেন দলীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও কয়েকজন তরুণ গবেষক।

বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দেওয়ার আগে ক্ষমতাসীন দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে আঁচ করতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোটের কোনও কোনও নেতার নাম নির্বাচনকালীন সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায় স্থায়ী কমিটি। এ কারণে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দেওয়ার আগে শরিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবে বিএনপি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘সহায়ক সরকারের চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সরকারকে আলোচনায় বসানো। সেক্ষেত্রে আন্দোলনের কৌশল কী হবে এবং অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহৎ ঐক্যের বিষয়টির সমাধান হলেই সহায়ক সরকারের প্রস্তাব আসবে।’

স্থায়ী কমিটির সূত্র বলছে, ‘বিকল্প ধারা, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি ‘বটমলাইন’ ঠিক করবে বিএনপি। এরপর সহায়ক সরকারের দাবিগুলো নিয়ে পোস্টার, প্রচার-প্রচারণা হবে।’

শামসুজ্জামান দুদু ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বরেই সহায়ক সরকারের একটি বাস্তব চিত্র দেখা যেতে পারে।